
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৪৬ পিএম

হাসান সাইদুল
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব গ্রহণ ছিল বিপদের সময় মাথায় ছাতা ধরার মতো। ৫ আগস্টের (২০২৪) পর তিনি না এলে দেশে হয়তো ভারতীয় হস্তক্ষেপ হতো। অনেক বেশি রক্তপাত হতে পারত। অনেক মারামারি হতো বাংলাদেশে। পুরোদস্তুর একটা অস্থিতিশীল অবস্থায় চলে যেত দেশ। যুগান্তরের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এমনই অভিমত প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান সাইদুল
যুগান্তর : অন্তর্বর্তী সরকারের সাত মাস অতিবাহিত হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড. দিলারা চৌধুরী : শেখ হাসিনার আমলের চেয়ে এখন আমরা অনেক ভালো আছি। তবে প্রথমদিকে সরকারের ওপর যে রকম মানুষের অনেক আশা-ভরসা ছিল, বিশেষ করে একটা নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা করার ব্যাপারে সরকার অনেক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করেছিল, সেটার ব্যাপারে সেরকম কোনো অগ্রগতি আমি দেখছি না। আপনারা জানেন, সবাই জানে-দেশের অবস্থা তেমন ভালো না। সরকারকে এটাকে দৃঢ়হস্তে মোকাবিলা করতে হবে। কেন সরকার এটা পারছে না, তার অনেক কারণ আছে। পুলিশ ইনঅ্যাক্টিভ। পতিত সরকারের লোকজন এখানে আছে না? তারা নানারকমের আন্দোলন ও ইস্যু নিয়ে রাস্তায় নামছে। সেজন্য দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী একটি দেশে কিছুটা অরাজকতা চলেই। এমনটা সব দেশেই হয়েছে। সেই অরাজকতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু যে সরকারকে শক্তিশালী হতে হবে তা না, অন্য যারা স্টেকহোল্ডার আছে, তাদেরও সাহায্য করতে হবে। সবচেয়ে বেশি আমি যেটা দেখি, সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে মাঠে আছে, কিন্তু তাদের কোনো অ্যাকশন নেই। তারা যদি অ্যাক্টিভ হতো, তাহলে কিন্তু সিচুয়েশন এত খারাপ হতো না। পুলিশ ডিমোরালাইজড। পুলিশ সংগঠিত হতে পারছে না এখনো, এটা সরকারের ব্যর্থতা বলে আমি মনে করি। সবচেয়ে বড় কথা, সাত মাস পর মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি হতাশা বেড়েছে। অথবা এ কথা ভেবে হতাশ হয়েছে যে, সরকারে যেসব উপদেষ্টা নেওয়া হয়েছে, তারা অযোগ্য। তাদের রাষ্ট্র চালানোর কোনো অভিজ্ঞতাও নেই। তারা জানেও না রাষ্ট্র কীভাবে চলে। এটা রাজনীতিকরা পারে, এনজিওওয়ালারা পারে না। প্রথম থেকেই এমন উপদেষ্টাদের নেওয়া উচিত ছিল, যারা রাজনীতি বোঝেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের রাজনীতি বোঝার মতো লোক, তাদের নেওয়া উচিত ছিল।
যুগান্তর : ড. ইউনূসের জায়গায় অন্য কেউ যদি থাকতেন, তাহলে কি প্রতিবিপ্লব হয়ে যেত বলে মনে করেন?
ড. দিলারা চৌধুরী : কথায় বলে না, বিপদের সময় মাথায় ছাতা ধরা? ৫ আগস্টের পর যদি তিনি না আসতেন, তাহলে দেশে হয়তো ভারতীয় হস্তক্ষেপ হতো। অনেক বেশি রক্তপাত হতো। পুরোদস্তুর একটা অস্থিতিশীল অবস্থায় চলে যেত দেশ। এখনো আমি মনে করি, তিনি একটা সিঁড়ির মতো কাজ করছেন পুরো বাংলাদেশে। এদেশে যারা রাজনীতি করেন-রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজ, মিডিয়া-সবারই এটা বোঝা উচিত যে তিনি একটা ঢালের মতো আমাদের আগলে রেখেছেন এবং এ ঢালের মধ্য থেকে আমাদের সবকিছু গুছিয়ে নিতে হবে। তিনি না থাকলে বাংলাদেশে অনেক অরাজকতা হতো এবং হবেও।
যুগান্তর : শেখ হাসিনা কয়েকদিন পরপর ‘লাইভে’ আসেন; কিন্তু তিনি চেহারা দেখান না। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
ড. দিলারা চৌধুরী : আমি জানি না এসব সত্য কিনা। এসব তো নাকি এখন বানানো যায়। আমি জানি না সত্য-মিথ্যা। কিন্তু হাসিনা বার্তা তো দিচ্ছেন। বার্তা দেওয়ার মানে ভারত তাকে সমর্থন করছে। কারণ ভারতকে না জানিয়ে তো তিনি কিছু করছেন না। ভারত আমাদের অস্থিশীল করতে চায়। এটা আমরা সবাই জানি। এটা হাসিনাকে দিয়ে করানো হচ্ছে। তবে এটা ভারতের ভুল পলিসি বলে আমি মনে করি। কারণ, বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে ভারতের নিরাপত্তার জন্য তা হবে বিপজ্জনক।
যুগান্তর : বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা বলতে কী বোঝায়? গত ১৬ বছর কি দেশ স্থিতিশীল ছিল? ভারতের দৃষ্টিতে অস্থিতিশীল কোনটা?
ড. দিলারা চৌধুরী : ভারতের দৃষ্টিতে অস্থিতিশীলতার মানে হচ্ছে, তাদের পছন্দমতো সরকার না থাকা। শেখ হাসিনার মতো সরকার না থাকা। এমন একটা সরকার তারা চায়, যারা জনপ্রিয় কিন্তু তাদের হয়ে কাজ করবে। তবে একেবারেই হাসিনার মতো আর আনতে পারবে না। এটা ঠিক যে, যতক্ষণ তারা হাসিনার মতো, নিজের পছন্দমতো সরকার আনতে না পারবে, ততক্ষণ তারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে যাবে।
যুগান্তর : ভারতের যে মিশন-ভিশন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা, তা প্রতিরোধ করার সক্ষমতা কি বাংলাদেশের আছে?
ড. দিলারা চৌধুরী : সেনাবাহিনী এখানে একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সেনাবাহিনী বিশাল গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রতিষ্ঠান। আমাদের অভ্যন্তরীণ নীতিতে তারা বিশাল ভূমিকা রাখে। এটা তাদের ছাড়া তো অসম্ভব বলে মনে করি। প্রশ্ন, আমরা পারব কি না? আমরা অবশ্যই পারব। কীভাবে? যদি আমরা জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো এক হই এবং ভারতের বিষয়ে আমরা প্রায় সবাই এক। শ্রীলংকা তো ভারতের কথা শুনছে না। আমরা যদি তাদের আধিপত্য না মানি, তাদের কথা না শুনি, কী করবে? আমরা ভারতের শত্রু নই। আবার তাদের আধিপত্যও মানব না। প্রতিবেশী তো বদলানো যাবে না। আমাদের সঙ্গে সমান সমান সম্পর্ক। সম্মানের সম্পর্ক এবং আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই।
যুগান্তর : ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ২০ দিনকে আওয়ামী লীগ ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চাচ্ছে। তারা ড. ইউনূসকে অনবরত ফ্যাসিস্ট বলছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?
ড. দিলারা চৌধুরী : ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চালিয়েছে, সেটা তো তারা মুছে ফেলতে চাইবেই। কারণ, এটা স্বীকার করলে তো তা আজীবন তাদের বহন করতে হবে। এটা যে গণহত্যা তাদের দলের, এর বিরাট নেগেটিভ প্রভাব তাদের (আওয়ামী লীগ) ওপর পড়বে। পাকিস্তান তো ’৭১-এর গণহত্যা স্বীকার করে না। কারণ, স্বীকার করলে তো তাদের একটা সিল পড়ে যাবে। তাই আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের মতো করছে। তারা কখনো স্বীকার করবে না যে ’২৪-এ তারা গণহত্যা চালিয়েছে।
যুগান্তর : কিন্তু তারা তো পুলিশ হত্যা নিয়ে মামলা করছে?
ড. দিলারা চৌধুরী : করতে পারে, সেটা তাদের বিষয়। এটা তো মনে রাখতে হবে, ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট দেশে কোনো সরকার ছিল না। তাছাড়া বিগত বছরগুলোয় আওয়ামী লীগের পুলিশ মানুষের ওপর যে অত্যাচার করেছে, মিথ্যা মামলা দিয়েছে, পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে ফাঁসিয়েছে, মুক্তিপণ আদায় করেছে-মানুষের তো তাদের ওপর রাগ থাকবেই। ওই রাগের বহিঃপ্রকাশ করেছে তারা। এ বিষয়ে বদরুউদ্দীন উমরের একটা কথা আমার পছন্দ হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, শেখ মুজিবের মূর্তিগুলো কেন ভাঙা হলো। তিনি উত্তরে বলেছেন, এটা শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞেস করা উচিত। মেয়ের জন্য তার বাপের এ অবস্থা। তো শেখ হাসিনার জন্য যদি তার বাপের এ অবস্থা হয়, একইভাবে তার জন্য পুলিশেরও এ অবস্থা হয়েছে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। পুলিশ কী অত্যাচার করেছে, তার সাক্ষী তো আমরা নিজেই। ভায়োলেন্স খুব খারাপ জিনিস। তবে সব দেশেই অভ্যুত্থানের পর এমন ভায়োলেন্স হয়ে থাকে। সিরিয়ায় কী হয়েছে? একদিনেই ৩৫ জন আর্মি অফিসারকে ফাঁসি দিয়েছে। আসলে কথায় আছে, ঘৃণা করলে তার প্রতিদানে তুমি ঘৃণা পাবে। তুমি যদি কারও ওপর ভায়োলেন্স করো, সেও সুযোগ পেলে তোমার ওপর ভায়োলেন্স করবে।
যুগান্তর : ভারত এখন কী করবে?
ড. দিলারা চৌধুরী : প্রত্যেক দেশে প্রত্যেকে নিজের স্বার্থ দেখে। আমাদেরও আমাদের স্বার্থ দেখতে হবে, যেটা আমরা দেখিনি। কিন্তু এখন আমাদের তরুণ প্রজন্ম ভারতের আধিপত্য মানতে রাজি নয়। এটা ভারতের স্বীকার করে নেওয়া উচিত। আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে যদি আওয়ামী লীগ বাদ দিই, এর বাইরে সবাই অত্যন্ত ভারতবিরোধী। এটা ভারতের বুঝতে হবে এবং এটা বুঝে তাদের দাদাগিরি পলিসি থেকে সরে আসতে হবে। ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক করতে হলে বাংলাদেশের জনগণের ভারতের ওপর কেন ক্ষোভ, তা বুঝে বিষয়গুলো কমিয়ে দিতে হবে। এটা সময় লাগবে, তবে তা করতেই হবে।
যুগান্তর : দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তো দ্রুত নির্বাচন চাচ্ছে। নির্বাচন দ্রুত হলে দেশের সংকট কি দূর হবে?
ড. দিলারা চৌধুরী : দ্রুত নির্বাচন হলে সংকট দূর হবে না। দেশের সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার করতেই হবে। তবে উপদেষ্টাদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে সংস্কারের নাম করে ওয়ান-ইলেভেনের মতো বেশ অনেকদিন থাকবে ক্ষমতায়। ইউনূস সরকারেরও বোঝা দরকার যে, সংস্কার নিয়ে টানতে টানতে দুই বছর নিয়ে যাব-এটা ঠিক হবে না। ন্যূনতম যে সংস্কারগুলো দরকার, তা করে নির্বাচন দিয়ে দেওয়া উচিত।
যুগান্তর : আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী?
ড. দিলারা চৌধুরী : আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাস্তবে শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশে বহুদিনের জন্য। আওয়ামী লীগ আর আগের মতো ফিরে আসতে পারবে না। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, আমরাই সব-এসব দর্শন বর্জন করে তাদের জনগণের রাজনীতি করতে হবে। তবে আওয়ামী লীগের হাল কে ধরবে, এটাও পরিষ্কার নয়। আমি মনে করি না যে, এমন কোনো নেতা আছে যে হাল ধরতে পারে। তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে-মেয়েও চেষ্টা করছে। তবে হালে পানি পাচ্ছে না। আবদুল হামিদ ও শিরীন শারমিন চৌধুরীর কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু তারা তো কলঙ্কিত। তারা কখনোই আওয়ামী লীগের হাল ধরতে পারবে না।
যুগান্তর : তবে কি মুসলিম লীগের ভাগ্য বরণ করছে আওয়ামী লীগ?
ড. দিলারা চৌধুরী : অলরেডি করেছে তো। আওয়ামী লীগকে নতুন করে আসতে হলে অনেক সময় লাগবে। জনগণের রাজনীতি করে নতুন করে আসতে হবে। তবে বিএনপি যদি ভালোভাবে পলিটিক্স না করে, তাদের অবস্থাও মুসলিম লীগের মতো হবে, এটাও তাদের মনে রাখা উচিত। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা যে ধারণ করতে না পারে, তাকে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়তে হবে। বিএনপিও হয়তো ক্ষমতায় আসবে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ধারণ না করলে হয়তো কিছুদিন ক্ষমতায় থাকবে। তবে ভালো রাজনীতি করলে, বিচার বিভাগ ঠিক রাখলে, সংস্কার করালে বিএনপি ভবিষ্যতের জন্য একটি পজিটিভ দল হবে।
যুগান্তর : বিএনপির বর্তমান রাজনীতি নিয়ে আপনি কী বলবেন?
ড. দিলারা চৌধুরী : বিএনপির রাজনীতি অনেকটা জিয়ার দর্শন থেকে সরে এসেছে। জিয়াউর রহমানের রাজনীতির সেন্টার পয়েন্ট ছিল ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে, যার জন্য তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিলেন এবং জিয়াউর রহমানকে মানুষ আজও ভালোবাসেন। জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ধরে রেখেছিলেন খালেদা জিয়া। যার কারণে তিনিও জনপ্রিয় হয়েছেন। কিন্তু বর্তমান বিএনপি জিয়াউর রহমানের রাজনীতি থেকে অনেকটা সরে আসছে, এটা দলটির জন্য ভালো হবে না। গত সাত মাসে বিএনপির কিছু বক্তব্য কূটনৈতিকভাবে যৌক্তিক হয়নি। মানুষ বিস্মিত হয়েছে। যেমন, কিছুদিন আগে বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আর্টিক্যাল সেভেনটি পরিবর্তন করা যাবে না। মানুষ তো অবাক হলো। তারপর কিছুদিন আগে দুটি পত্রিকার সামনে গরু জবাইয়ের ঘটনায় বিএনপির ভেতর কান্নাকাটি পড়ে গেল। অথচ তারেক রহমান সম্প্রতি বলেছেন, বিএনপি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হচ্ছে। বিএনপির বিরুদ্ধে প্রথম মিডিয়া ট্রায়াল কারা করেছে? কারা শুরু করেছিল ওয়ান-ইলেভেনের সময়? দিনের পর দিন খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা স্টোরি ছাপাত কারা?
যুগান্তর : ছাত্রদের নতুন দল নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
ড. দিলারা চৌধুরী : প্রত্যেকেরই রাজনৈতিক দল করার অধিকার আছে। ছাত্ররাও করেছে এবং ছাত্ররা একটা আদর্শ নিয়ে যুদ্ধ করেছে। সেই আদর্শ নিয়ে যদি তারা রাজনীতি করে, তাহলে পার্টিটার ভবিষ্যৎ আছে। কারণ, তরুণ প্রজন্মের হাতেই আমাদের দেশকে দিতে হবে। তারা যদি কিংস পার্টি করে-সরকারের কাছ থেকে টাকাপয়সা নিয়ে অথবা কোনো বাহিনীর সহযোগিতায়, তাহলে রাজনৈতিক দলটি বেশিদূর যেতে পারবে না। তবে আমি আশা করব, সেটা হবে না। তারা আদর্শগতভাবে নিজেদের ছোট থেকেই শুরু করুক। কিন্তু তিনশ আসনে প্রার্থী দেওয়া তাদের জন্য খুব বেশি হয়ে যাবে। কিছু কিছু ছেলে আমি দেখলাম খুবই রাজনীতি সচেতন। এদের মধ্যে হান্নান মাসুদ নামের ছেলেটাকে মূল্যায়ন করতে চাই। আমি দেখলাম ছেলেটা স্থানীয় রাজনীতি বোঝে, এলাকার উন্নতির জন্য রাজনীতি করতে চায়। ছেলেটা যদি রাজনীতিতে চলে আসে, তাহলে দলটার ভবিষ্যৎ আছে; কিন্তু যদি বলে তিনশ আসনে প্রার্থী দেব, তাহলে টাকা কোথায় পাবে? নিশ্চয় কোনো বিজনেস গ্রুপের কাছ থেকে নিতে হবে! তবে কারও কাছ থেকে টাকা নিলে দলটার ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। টাকা নিলে সেই পার্টির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। বরং ছাত্রদের প্রতি আমাদের যে আদর্শগত ভালোবাসা, সেই ভালোবাসার জায়গাটা নষ্ট হয়ে যাবে। এটা খুব দুঃখজনক হবে। আমি আশা করি, এটা ঘটবে না।
যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।
ড. দিলারা চৌধুরী : ধন্যবাদ।