
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০১:০৩ এএম
শাপলায় আলেম ওলামা ও মুসল্লিদের গণহত্যার লোমহর্ষক কাহিনি

মোবায়েদুর রহমান
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের সময়টা ছিল সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। এ সাড়ে ১৫ বছরে সব ধরনের অপশাসন এবং কুশাসন করেছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াল ও লোমহর্ষক যে চারটি ঘটনা, সেগুলো হলো-পিলখানা ম্যাসাকারে ভারত ও আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ৫৭ জন চৌকশ অফিসারসহ ৭৪ জন অফিসারকে হত্যা। দ্বিতীয়ত, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর সারা দেশে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে ২৫৭ ব্যক্তির শাহাদতবরণ। তৃতীয়ত, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে লাখ লাখ মানুষের ওপর পুলিশ, র্যাব ও বিডিআরের হেভি ক্র্যাকডাউন, যার ফলে অসংখ্য আলেম-ওলামা ও মুসল্লি নিহত। সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানে দেড় হাজার ছাত্র-জনতার শাহাদতবরণ এবং যৌথবাহিনীর গুলিতে ২৬ হাজার মানুষের আহত হওয়া। এ চারটি গণহত্যার মধ্যে বিভীষিকার দিক থেকে কোনোটিই কারও অংশে কম নয়।
সম্প্রসারণবাদী ভারতের টার্গেট ছিল দ্বিবিধ। প্রথমত, বাংলাদেশে যেন শক্তিশালী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না ওঠে। সেজন্য বিডিআর ম্যাসাকার। এ উদ্দেশ্য সাধিত হওয়ার পর তাদের দ্বিতীয় টার্গেট হয় এদেশ থেকে ইসলামি ইমান ও আকিদাকে ধীরে ধীরে মুছে ফেলা। কিন্তু সেই কাজটি এত সহজ ছিল না। কিন্তু এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা এবং ভারতের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় আমেরিকা ও পাশ্চাত্য দুনিয়ার ইসলামোফোবিয়া। বাংলাদেশে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের নামে কয়েকজন ব্লগার আল্লাহতায়ালা এবং রাসূলের (সা.) বিরুদ্ধে কুৎসিত অপপ্রচার চালায়। এ অপপ্রচারে এগিয়ে আসে কয়েকজন ব্লগার। এরা হলো রাজীব হায়দার, যে থাবা বাবা নামে ব্লগ লিখত। ব্লগার অভিজিৎ রায়, যে আকাশ মালিক ছদ্মনামে মুক্তমনা ব্লগে লিখত। শেখ হাসিনার শাসন এ চরম ধর্মদ্রোহিতায় নির্বিকার থাকত এবং যারাই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলত, তাদেরই মৌলবাদী, প্রতিক্রিয়াশীল, সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি তকমা দেওয়া হতো।
এ পটভূমিতে মুসলমানদের ইমান-আকিদা রক্ষায় জন্ম নেয় হেফাজতে ইসলাম নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, যেখানে বেশ কয়েকটি ইসলামি সংগঠন অনেকটা ফেডারেশনের মতো হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে কাজ করা শুরু করে। হেফাজতে ইসলাম শেখ হাসিনা সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি পেশ করে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে দাবি তো উত্থাপিত হতেই পারে। সেই দাবি নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার আপস-আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পথে সেসব দাবির মিটমাট বা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে।
এর আগে ওরা পবিত্র ইসলামের বিরুদ্ধে মানুষের মন বিষিয়ে তোলার জন্য জামায়াত নেতাদের কথিত যুদ্ধাপরাধকে ইসলামের সঙ্গে সমার্থক করে। ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে জামায়াত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, আবদুল কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আলী আহসান মুজাহিদ, মীর কাসেম আলী, অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আবদুল আলীমসহ অন্তত ২২ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার এবং সারা দেশে একদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার অসৎ উদ্দেশ্যে শাহবাগে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় স্থাপন করা হয় গণজাগরণ মঞ্চ। এ মঞ্চের আউটার ফেস বানানো হয় ইমরান এইচ সরকার নামক এক ডাক্তারকে। ইমরান এইচ সরকার, লাকী আক্তার প্রমুখের মাধ্যমে কাজ হয়ে গেলে পরবর্তীকালে তাদের পরিত্যক্ত টিস্যু পেপারের মতো ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
আজ আমরা আমাদের আলোচনা হেফাজতে ইসলামের গণহত্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব।
২.
আগেই বলেছি, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়া হয় ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত। দাবি মানা না হলে ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে হেফাজতে ইসলাম। নির্ধারিত দিনে অর্থাৎ ৫ মে সারা দেশ থেকে লাখ লাখ ওলামা-মাশায়েখ ও মুসল্লি ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করেন। জুলাই বিপ্লবের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মার্চ টু ঢাকা অভিযান ব্লক করার জন্য যেমন ঢাকা মহানগরীর ৬টি প্রবেশমুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নেয়, অনুরূপ হেফাজতে ইসলামের আলেম-ওলামা এবং মাদ্রাসাছাত্রদের ঢাকায় প্রবেশ বন্ধ করার জন্য মহানগরীর ৬টি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নেয়। শাপলা চত্বরে পৌঁছার আগেই রমনা ভবনের উলটো পাশে অবস্থিত আওয়ামী লীগ অফিস এবং বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আগে থেকে মোতায়েন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের লাঠিয়াল বাহিনী এসব নিরীহ মাওলানা এবং মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। ফলে শাপলায় সমাবেশ শুরুর আগেই কয়েকজন হেফাজত কর্মী শাহাদতবরণ করেন। আওয়ামী লীগের ঝটিকা বাহিনী এমন নোংরা রাজনীতির আশ্রয় নেয়, তারা বায়তুল মোকাররমে ইসলামি বইয়ের দোকানে হামলা করে। তারা নিজেরাই পবিত্র কুরআনে আগুন লাগিয়ে সেগুলো হেফাজতের কাণ্ড বলে নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে প্রচার করে। বায়তুল মোকাররমে সোনার দোকান লুট করে আওয়ামী গুণ্ডা বাহিনী। ইসলামি বইয়ের দোকান, সোনার দোকান ইত্যাদিতে হামলার অভিযোগ হেফাজতের ঘাড়ে চাপিয়ে হেফাজত কর্মীদের গ্রেফতারের হুকুম দেন শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে শাপলায় অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশ বন্ধ করার জন্য আজকের ভাতের হোটেলের জন্য কুখ্যাত ডিবি হারুন সেদিন উপকমিশনার হিসাবে হেফাজতের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন।
এ চাপে কোনো কাজ না হওয়ায় হেফাজতের তৎকালীন আমির মরহুম আল্লামা শফিকে জোর করে বিমানে উঠিয়ে চট্টগ্রাম পাঠিয়ে দেন ডিবি হারুন। সারা শহরব্যাপী সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের ঠ্যাঙ্গাড়ে বাহিনী ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে। পথে পথে বাধা, ইস্টক বৃষ্টি, লাঠিপেটাকে উপেক্ষা করে স্রোতের মতো মানুষ শাপলায় জমায়েত হয়। দেখতে দেখতে বিকালের মধ্যেই লক্ষ মানুষের পদভারে প্রকম্পিত হয় শাপলা চত্বর। চত্বরের চতুর্দিক কানায় কানায় পূর্ণ হয়েও চারদিকে জনতার স্রোত উপচে পড়ে।
৩.
দুপুর থেকেই শাপলায় নির্মিত হেফাজতের মঞ্চ থেকে বক্তৃতা চলতে থাকে। এর মধ্যে মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয়, দেশের দূরদূরান্ত থেকে আগত এ লক্ষ মানুষ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাপলা চত্বরেই অবস্থান গ্রহণ করবেন। লক্ষ লোকের জনস্রোত দেখে আওয়ামী লীগের হৃদকম্প শুরু হলেও হেফাজতকে দমন করার জন্য শেখ হাসিনা হিংস্র হয়ে ওঠেন। ঘসেটি বেগমের (গডমাদার) সভাপতিত্বে শুরু হয় ইনার কনক্লেভের ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনার হুকুম, যে কোনো মূল্যে লক্ষ মানুষের সমাবেশকে পণ্ড করতে হবে এবং রাতের মধ্যেই সমাবেশ স্থল ক্লিয়ার করতে হবে। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শাপলা ক্লিয়ার করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন পুলিশপ্রধান আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, র্যাব মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান এবং মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ (পরবর্তীকালে সেনাপ্রধান)সহ গোয়েন্দা প্রধানদের।
রাতের মধ্যেই মাঠ খালি করার জন্য গ্রহণ করা হয় ইতিহাসের অন্যতম বর্বর এক প্ল্যান। সেই প্ল্যানের অংশ হিসাবে ৫ মে রাত ১টা থেকে শাপলা চত্বর এবং আশপাশের সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সৃষ্টি হয় এক অন্ধকার ভৌতিক পরিবেশ। অতঃপর রাত ২টা ১৫ মিনিট থেকে অসহায় আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকের ওপর শুরু হয় প্রচণ্ড সাঁড়াশি অভিযান। এ অভিযান যে কত ভয়ংকর এবং লোমহর্ষক ছিল, সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরকারি হিসাব থেকেই বোঝা যায়। স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ছাড়াও আর্মার্ড পারসোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি) ব্যবহার করা হয় এ অভিযানে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, ৫ মে দুপুর থেকে পরদিন ৬ মে ভোর পর্যন্ত ৮০ হাজার টিয়ারশেল, ৬০ হাজার রাবার বুলেট, ১৫ হাজার শটগানের গুলি এবং ১৫ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাইরে পিস্তল-রিভলবারের গুলি ব্যবহৃত হয়েছে সাড়ে ৩শ রাউন্ড। এটি ছিল সরকারি হিসাব, কিন্তু এর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।
৪.
৫ মে দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিট থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে আলেম-ওলামাদের দমনের যে অভিযান শুরু হয়, রাত সাড়ে ৪টার সময়ও সেই অভিযানের গুলির শব্দ আশপাশের মানুষ শুনতে পান। পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবি এ অভিযান পরিচালনা করে। দিগন্ত টিভি এবং ইসলামিক টিভি শেখ হাসিনার এ রক্তক্ষয়ী অভিযান ধারণ করছিল। রাত ৩টার সময় দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। দিগন্ত টেলিভিশনের চেয়ারম্যান কয়েক দিন আগে এক ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ সশস্ত্র বর্বরতার ধারণ করা চিত্র তারা এখনো পূর্ণ হেফাজতে নিজেদের সংরক্ষণে রেখেছেন।
রাত সাড়ে ৪টার মধ্যেই অপারেশন শেষ হয়। ভোর ৫টার মধ্যেই লক্ষ মানুষকে অস্ত্রের মুখে শাপলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার প্ল্যান মোতাবেক অসংখ্য মানুষ এ হামলায় নিহত হন, যাদের রক্তে ভেসে যায় শাপলা চত্বর। ভোর ৫টার মধ্যেই সরকারি উদ্যোগে রক্তের দাগ মুছে ফেলা হয় এবং অনেক লাশ ময়লার গাড়িতে করে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হয়। পুলিশের দেওয়া এ অপারেশনের সাংকেতিক নাম হয় ‘অপারেশন সিকিওরড সাপ্লাই’। র্যাবের অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন ফ্ল্যাশআউট’। আর বিজিবি অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন ক্যাপচার’। এ অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন পুলিশের সাবেক আইজি (বর্তমানে কারাগারে) শহিদুল হক, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল জলিল, পুলিশ অফিসার এসএম মেহেদি হাসান, পুলিশ অফিসার ইব্রাহিম ফাতেমী, ইমাম হোসেন, ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও ছিলেন সেই সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল, পরবর্তীকালে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত জিয়াউল আহসান, রাজীব দাস, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান, র্যাব থেকে মেজর সাব্বির সিদ্দিকী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিসমত হায়াত। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জনের নাম জানা গেছে।
৫.
৫ ও ৬ মে শাপলা ম্যাসাকারে কতজন আদম সন্তান শহিদ হয়েছেন? ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির তরফ থেকে একটি তথাকথিত গণতদন্ত কমিশন তদন্ত করে। এ কমিশনের সদস্য ছিলেন শাহরিয়ার কবির, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, মুনতাসীর মামুন, অ্যাডভোকেট তুরিন আফরোজ, অধ্যাপক অজয় রায় এবং আবুল বারাকাত। পুলিশ বলেছে, অন দ্য স্পট নিহত হয়েছেন দিনে চারজন এবং রাতে মাত্র একজন। পক্ষান্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিহতের সংখ্যা দেওয়া হয়েছে ২৮। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অনুসন্ধানে বলা হয়, শাপলা অভিযানে নিহত হয়েছেন ৩৯ জন আদম সন্তান। ৬ ও ৭ মে নারায়ণগঞ্জ, হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। এসব বিক্ষোভে পুলিশের গুলিবর্ষণে নিহত হন ২৪ জন আদম সন্তান। হেফাজত বলেছে, এ অভিযানে নিহত হয়েছেন ৩ হাজার। পক্ষান্তরে বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল বলেছে ১ হাজার। অন্যদিকে গত বছর আগস্ট মাসে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ বলেছে, মৃতের সংখ্যা ৬১। লন্ডনের দি ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ডেভিড বার্গম্যান বলেছেন, এ সংখ্যা ৩৬। কিন্তু ৬ মে থেকে পরবর্তী ২/৩ দিন আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ হিসাবে ৭১টি লাশ কবর দেয়।
হেফাজত সুসংগঠিত কোনো দল নয়। উপরন্তু শাপলা অভিযানের পর মৃতের সংখ্যা নির্ণয় করা ছিল অসাধ্য ব্যাপার। যারাই এ কাজে হাত দিয়েছে, তাদের ওপরই নেমে এসেছে সরকারের হুমকি-ধমকির খড়্গ। তবে নিহতের প্রশ্নাতীত সংখ্যা হলো অধিকারের ৬১+বেওয়ারিশ লাশ দাফন ৭১=১৩২। বটম লাইন হলো, লাশের সংখ্যা যাই হোক, এটি ছিল একটি গণহত্যা। দুর্ভাগ্যের বিষয়, শাপলা ম্যাসাকারের ওপর কোনো তদন্ত কমিশন আজও গঠিত হয়নি। ইতিহাসের এ ঘনকৃষ্ণ অন্ধকারের পর্দা অবিলম্বে উন্মোচন করা প্রয়োজন। দেশে ১ কোটিরও বেশি আলেম-ওলামা রয়েছেন। রয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ছাত্র। তারা অসহায়। তারা নিরীহ। কিন্তু এসব অসহায় এবং নিরীহ মানুষদেরও বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
মোবায়েদুর রহমান : সিনিয়র সাংবাদিক
journalist15@gmail.com