
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৩৬ পিএম
রোজায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কী করবেন

ডা. তাহমীদ কামাল
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

রমজানে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অবশ্যই খাবার, ওষুধ, পানি গ্রহণ এবং শারীরিক কার্যক্রমের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হলো-
* সঠিক ডায়েট মেনে চলুন
▶ ইফতার : কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সম্পন্ন খাবার যেমন ডাল, ছোলা, শাকসবজি, বাদাম, লো-ফ্যাট দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া ভালো। খেজুর খেতে পারেন, তবে ১-২টির বেশি নয়।
▶ সেহরি : ধীরে হজম হয় এমন খাবার (যেমন লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সম্পন্ন শস্য, ব্রাউন রাইস, ডাল, ওটস) রাখুন।
▶ পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ : অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মিষ্টি ও ক্যালোরিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
* পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন, যাতে ডিহাইড্রেশন এড়ানো যায়।
* ওষুধ ও ইনসুলিন ব্যবস্থাপনা
▶ যদি আপনি ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তবে ডোজ ও সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সামঞ্জস্য করুন।
▶ কিছু ওষুধ (যেমন-সালফোনাইল ইউরিয়া) রোজায় হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা কমে যাওয়া) তৈরি করতে পারে, তাই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
* শারীরিক কার্যক্রম
▶ হালকা ব্যায়াম করুন, তবে রোজার সময় ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।
▶ ইফতারের পর হালকা হাঁটাহাঁটি করুন।
* ব্লাড সুগার মনিটরিং করুন
▶ রোজার সময় নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে ইফতারের আগে ও দুই ঘণ্টা পর এবং সেহরির আগে।
▶ যদি রক্তে শর্করা 3.9 mmol/l (৭০ mg/dl)-এর নিচে নেমে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে ফেলা জরুরি।
▶ যদি রক্তে শর্করা 16.7 mmol/l (৩০০ mg/dl)-এর বেশি হয়, তাহলে ডিহাইড্রেশন ও কিটোএসিডোসিস হতে পারে, যা বিপজ্জনক।
* কখন রোজা ভাঙতে হবে
▶ রক্তে শর্করা খুব বেশি বেড়ে গেলে বা কমে গেলে।
▶ শরীর দুর্বল লাগলে, মাথা ঘুরলে বা অত্যধিক ঘাম হলে।
▶ ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ দেখা দিলে।
ডায়াবেটিসের ধরন, ওষুধ, এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে রোজা রাখার আগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক : ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ