
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
আরও পড়ুন
ফেসবুকে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে এক তরুণী তার সম্ভ্রম হারিয়েছেন। ভারতে অনেক টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে ময়মনসিংহ থেকে সাতক্ষীরায় এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এই অভিযোগে তিন লম্পটকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত জেলার কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ওই তরুণীকে কয়েক দফা ধর্ষণ করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন, মেহেদি হাসান ওরফে সবুজ, তার ভাই সাকিব হোসেন ও মো. গোলাম রসুল ওরফে রাকিব। তাদের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার কাঠুনিয়া গ্রামে।
সাতক্ষীরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী তরুণী জানান, তার বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায়। পেশায় তিনি একজন মডেল ও পার্লারের রূপবিশেষজ্ঞ। কয়েক দিন আগে ফেসবুকে তার সঙ্গে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কাঠুনিয়া গ্রামের গোলাম রসুলের পরিচয় হয়। কয়েক মাস কোন কাজ না থাকায় তিনি বাড়িতে বেকার বসেছিলেন। গোলাম রসুলের সঙ্গে পরিচয়ের একপর্যায়ে তিনি ভারতে কাজের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান। তার কথায় ২২ মার্চ তিনি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে আসেন। ওইদিন সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে মেহেদি ও গোলাম রসুল তাকে মেহেদির বাড়িতে নিয়ে রাখেন।
রোববার মেহেদির বাড়ি থেকে তাকে কদমতলা গ্রামের আমিনুল ইসলাম নামের একজনের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে অচেতন করার পর একে একে কয়েকজন তাকে ধর্ষণ করে। সোমবার তাকে শ্যামনগর উপজেলার কুলতলী গ্রামে একজনের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। মঙ্গলবার আবার তাকে কয়েকজন ধর্ষণ করে। এরপর ফের তাকে মেহেদির বাড়িতে আনা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে মুঠোফোনে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে দুপুরে পুলিশ তাকে উদ্ধার এবং ৩ জনকে গ্রেফতার করে। কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল রশিদ মোল্যা বলেন, এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা হয়। ওই তরুণী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।