
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০১:১৪ এএম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাদের অবস্থা আওয়ামী লীগের মতোই হবে। স্বৈরাচারী হলে জনগণই তাদের ক্ষমতা থেকে বের করে দেয়। তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি করে প্রচার করা হচ্ছে যে, বিএনপি আগে নির্বাচন চায়, তারপর সংস্কার চায় অথবা সংস্কার চায় না, নির্বাচন চায়। আমি আপনাদের সামনে পরিষ্কার করে বলছি, এটা একটা ভ্রান্তধারণার সৃষ্টি করা হচ্ছে জনগণের মধ্যে। আমরা বারবার এ কথাটাই বলছি, আমরাই তো সংস্কারের প্রবক্তা। বিএনপি কখনোই বলেনি যে, আগে নির্বাচন, তারপর সংস্কার। বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতিপাড়া মহল্লায় পৈতৃক বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো ভিন্নমত থাকবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের যদি একই মত থাকে, তাহলে তো একই হয়ে গেল। একেক দলের একেক মত থাকবে। জনগণ বেছে নেবে কোনটি তাদের জন্য উপযোগী। এ কারণেই তো নির্বাচন। নির্বাচন কেন? আমি আমার ম্যানিফেস্টো নিয়ে জনগণের কাছে যাব। আমি যে কাজগুলো করতে চাই, আমার পলিসিগুলো তুলে ধরব। দিস ইজ মাই পলিসি, আপনারা আমাকে ভোট দিয়েন। অন্য দলগুলো তাদের পলিসি নিয়ে যাবে। জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই সরকার গঠন করবে। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা বলছি যে, একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের জন্য যে ন্যূনতম সংস্কারগুলো করা দরকার, সেগুলো করতে হবে। যেমন নির্বাচনব্যবস্থাকেন্দ্রিক যে সংস্কার।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সংস্কারের দাবি তো আমাদের। বিএনপির দেওয়া ৩১ দফার একটি হলো নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার। ২০১৬ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০ দিয়েছেন প্রথম। সেখানে আমরা আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার যে পরিবর্তনগুলো করা দরকার, সে কথাগুলো তখনই বলেছি। আজ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের কথা উঠছে এবং সংস্কার কমিশনও বলছে, এটা করতে হবে। এ কথা তো আমরা তখনই বলেছি। আমরা যা বলেছি, সেগুলোই তো আসছে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? কতগুলো বিষয় আছে মীমাংসিত, সে বিষয়গুলোয় আমরা হাত দিতে চাই না। এখন বলুন তো দেখি, গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে বহুত্ববাদ আমাদের দেশের কয়টা লোকে বুঝে? এদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক কাদের? রাজনৈতিক দলগুলোর। জামায়াত, বিএনপি বা আওয়ামী লীগ হোক, জাতীয় পার্টি হোক, জাকের পার্টি হোক বা ছাত্রদের সংগঠনটাই হোক-তাদের সঙ্গে সম্পর্ক হচ্ছে জনগণের। আর যারা এসেছেন সংস্কারের খুব জ্ঞানী মানুষ, পণ্ডিত লোক, বিশাল বিশাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। তাদের আমরা সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। তারা যদি জনগণের বাইরে গিয়ে কিছু করেন পলিটিক্সে, আমরা তাদের সমর্থন করতে পারব না। জনগণ যেটা চাইবে, আমরা সেটাই সমর্থন করব।
পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের ধামাধরা পুলিশ প্রশাসন ছিল। তারা যা বলত, তাই করত। ফলে প্রশাসনিক যে কনফিডেন্স, এটি তাদের কমে গেছে। এর ফলে বিভিন্ন জায়গায় যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তারা সেভাবে নিতে পারছে না। যেটা তাদের নেওয়া উচিত। নিজ দলের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দলের কিছু কিছু ব্যক্তি, তারা কিছু কাজ করেছিল, যেগুলো আমরা প্রশ্রয় দিই না। সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো কমিটি ভেঙে দিয়েছি, কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি, দল থেকে বহিষ্কারও করেছি।
ভারতীয় গণমাধ্যম সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ওদের (ভারতের) মিডিয়া সাইটগুলোয় যে ইনফরমেশন থাকে, এগুলো আপনারা পড়লেই বুঝবেন যে, মিথ্যা বয়ান দিচ্ছে তারা।
বিএনপির এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক বলেন, রাজনৈতিক দল নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে কাজ করে। রাজনৈতিক দল তো আকাশ থেকে উড়ে আসে না। জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করতে হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কেউ যদি ফলো করে, তাহলে সেখানে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা যায় না। আজ গোটা পৃথিবীতে ডানপন্থিদের একটা উত্থান ঘটেছে এবং তারাই বলছে যে, গণতন্ত্র ইজ গোয়িং ডাউন। জাতিসংঘের মহাসচিব এসেছিলেন দেশে, ওনার সঙ্গে আমাদের একটা এক্সক্লুসিভ মিটিং হয়েছিল। কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং সংস্কারপ্রধানদের। সেখানে তিনি নিজেই বলেছিলেন, গণতন্ত্র এখন খুব বিপদের সম্মুখীন। বিভিন্ন দেশে ডানপন্থিদের উত্থান হচ্ছে, কর্তৃত্ববাদের উত্থান হচ্ছে, গণতন্ত্র নিচে নামছে। কিন্তু তারপরও গণতন্ত্রই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা, সুশাসনের জন্য, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পয়গাম আলী, বিএনপি নেতা আনসারুল হক, দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।