
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:২০ পিএম
সাত মুসল্লির মসজিদ মান্দার চৌজা

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের ক্ষুদ্রায়তন প্রাচীন মসজিদগুলোর একটি নওগাঁর মান্দা উপজেলার চৌজা গ্রামে অবস্থিত চৌজা মসজিদ। এক কক্ষের এই মসজিদে ইমামসহ ৭ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। এই মসজিদের স্থাপত্যরীতিতে সুলতানি আমলের ভাবধারার ছাপ সুস্পষ্ট। মসজিদটি কত সালে নির্মিত, সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
নওগাঁ জেলা ও মান্দা উপজেলা তথ্য বাতায়নেও মসজিদটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেই। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মতে, সুলতানি আমলের স্থাপত্যরীতিতে তৈরি মসজিদটি অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে নির্মাণ করা হয়ে থাকতে পারে। এই মসজিদ নওগাঁ জেলা শহর থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার পশ্চিমে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কসংলগ্ন মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চৌজা গ্রামে অবস্থিত।
২০০২ সালের ১৯ জুন চৌজা মসজিদকে ‘সংরক্ষিত পুরাকীর্তি’ ঘোষণা করা হয়। আয়তাকার মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ১৫ ও প্রস্থে ১৫ ফুট। এর দেওয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৩ ফুট ৯ ইঞ্চি, মূল দরজার উচ্চতা ৫ ফুট এবং উত্তর ও দক্ষিণ পাশের ছোট দুটি দরজার উচ্চতা ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি।
এক গম্বুজের এ মসজিদে ৩টি খিলান দরজা এবং ৪ কোণায় ৪টি বুরুজ বা মিনার আছে। এছাড়া মসজিদের মূল দরজা, উত্তর ও দক্ষিণের দরজা এবং মেহরাবের ওপরের অংশে দুটি করে মোট ৮টি ছোট মিনার আছে। মসজিদের ৩টি খিলান দরজার ওপরে চালা আকৃতির ডিজাইন করা আছে। এছাড়া প্রতিটি বুরুজ বা মিনারের নিচের অংশে কলস আকৃতির ডিজাইন করা। মসজিদের প্রবেশ দরজার ওপর টাঙানো আছে ৫টি কাঠি, যা দেখে অতীতে নামাজের ওয়াক্তের হিসাব করা হতো।
গ্রামের স্কুলশিক্ষক আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, আমাদের বাপ-দাদারাও বলতে পারেননি এই মসজিদ কবে নির্মিত হয়েছে। এই মসজিদে স্থানীয় মুসল্লি ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে প্রতি জুমায় অনেকে নামাজ আদায় করতে আসেন। মসজিদের মূল অংশে মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ২০০৪-০৫ সালে মসজিদের সামনে অংশের মেঝে পাকা করে সেখানে নামাজ আদায় করা হয়। ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে বর্তমানে এই মসজিদে প্রায় ১শ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।
১২ বছর ধরে এই মসজিদে ইমামতি করছেন হাফেজ রায়হান মণ্ডল। তিনি বলেন, চৌজা পুরাকীর্তি জামে মসজিদে জুমার নামাজসহ ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। মসজিদের ভেতরের অংশে ইমাম ও ৬ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। বিগত সময়ে মসজিদটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ২০০৪ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংস্কার করেছে।
বর্তমানে শ্যাওলা ধরে মসজিদটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া মসজিদটিতে অজু ও শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় মুসল্লিদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের কাস্টডিয়ান মুহাম্মদ ফজলুল করিম বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এটি। দীর্ঘদিন এই মসজিদ দৃষ্টির আড়ালে ছিল। মসজিদটি পরিদর্শন করে সংস্কারের প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন তিনি।