প্রধান উপদেষ্টাকে মির্জা ফখরুল
শক্ত হাতে সরকার পরিচালনা করুন

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
-67be3814e9173.jpg)
ছবি: সংগৃহীত
শক্ত হাতে সরকার পরিচালনা করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বিএনপির উদ্যোগে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
ফখরুল বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তোলার সেই সুযোগকে আবার ধ্বংস করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। শেখ হাসিনা ভারতে বসে চক্রান্ত করছেন। এর অংশ হিসাবে আজ আমরা দেখছি বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন পক্ষ থেকে অস্থির অবস্থা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি কোনো পক্ষপাতিত্ব করছেন, এটা যেন কেউ না বলে। আমরা আশা করব, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দ্রুত ন্যূনতম সংস্কার সম্পন্ন করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যান। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং ভষ্যিতের জন্য সমৃদ্ধি আনবেন।
এটাই প্রত্যাশা। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাদা ছোড়াছুড়ি ও তর্ক-বির্তক বন্ধ করে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন। যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার মধ্যে আমরা একটা গণতান্ত্রিক জায়গায় পৌঁছাতে পারি। অনেকে বলেন, আমরা নাকি শুধু নির্বাচন, নির্বাচন করছি; আমরা সংস্কার করতে চাই না’। এত বড় মিথ্যা প্রচারণা তারা (ষড়যন্ত্রকারী) বিভিন্নভাবে চালাচ্ছে। কয়েকজন মানুষ, তারা বিএনপিকে টার্গেট করেছে। মিথ্যা প্রচারণা করে বিএনপিকে হেয় করতে চায়।
ফখরুল বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না করলে আমরা কোনো মতেই একটা স্থিতিশীল অবস্থা পাব না। সেজন্য আমরা বারবার বলে আসছি, দেশে প্রকৃতপক্ষে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এজন্য আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করছি। আজ সেই জায়গায় বিভিন্ন রকম প্রশ্ন তুলে একটা নৈরাজ্যের দিকে দেশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
২৫ ফেব্রুয়ারি একটা ‘কালো দিন’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই বাংলাদেশের শত্রুদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ বিদ্রোহের ঘটনা ঘটিয়ে সেদিন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর প্রায় ৫৭ জন কর্মকর্তাকে তারা হত্যা করেছে। এই যে একটা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। আমার প্রশ্নটা ওই জায়গায়-সেদিন যিনি রাষ্ট্রের দায়িত্বে ছিলেন, শেখ হাসিনা সেদিন কী ভূমিকা পালন করেছেন, সেদিন সেনাবাহিনীর প্রধান কী ভূমিকা পালন করেছেন?
জাতির দুঃসময়ে সেনাবাহিনীর এগিয়ে আসা এবং তাদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের শক্তি। আমরা তাদের সব সময় দেখেছি, জাতির দুঃসময়ে তারা এগিয়ে আসেন। আজ ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকৃতপক্ষে একটা দেশপ্রেমিক ভূমিকা পালন করেছে।
এর আগে এদিন সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহিদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তখন তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শত্রুরা ষড়যন্ত্র করে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছিল। আওয়ামী লীগ সরকার এ বিষয়ে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। এতে দুদিন ধরে পিলখানায় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। ফখরুল বলেন, আজ পর্যন্ত এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। তবে সরকারকে (অন্তর্বর্তী) ধন্যবাদ জানাই। তারা অন্তত এটিকে শহিদ সেনা দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি, এ ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করা হবে এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি।