আশুলিয়ায় নারী শ্রমিককে তুলে নিয়ে হত্যা
লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

যুগান্তর প্রতিবেদন, ঢাকা উত্তর ও আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

সাভারের আশুলিয়ায় রাতে কারখানা থেকে ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার পথে এক নারী শ্রমিককে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। সোমবার ভোর ৩টার দিকে এ ঘটনায় নিহত সুবর্ণা আক্তার (৩৫) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বাসিন্দা ছিলেন। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় ছিনতাইকারীর হামলায় মৃত্যু দাবি করে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে ওই মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
সহকর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের কবিরপুর এলাকা অবরোধ করে সোমবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন তানজিলা গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকরা। এর আগে ভোর ৩টার দিকে কারখানা থেকে বের হওয়ার সময় ৩ নারী শ্রমিককে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। নিহত সুবর্ণা আক্তার বাড়ইপাড়া এলাকায় স্বামী-সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে তানজিলা টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানায় ফিনিশিং কিউসি পদে চাকরি করতেন। আহত দুজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে তারাও একই কারখানার শ্রমিক।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, কারখার নাইট শিফটে ডিউটি করে রাত ৩টায় ৫ নারী শ্রমিককে ছুটি দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়িতে ওই তিন শ্রমিককে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। সকালে একজনের লাশ বাড়ইপাড়ায় রাস্তার পাশে পরে থাকতে দেখেন শ্রমিকরা। তারা লাশটি সুবর্ণার বলে শনাক্ত করেন। শ্রমিকরা লাশ উদ্ধার করে কারখানার সামনে আসেন এবং আহত দুই নারী শ্রমিককে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে পাঠান। পরে লাশ নিয়ে কারখানার সামনের মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিকরা আরও জানান, কারখানায় কোন শ্রমিকের কখন ছুটি হবে তা জানা যায় না। কখনো রাত ২টায় আবার কখনো ৩টায় ছুটি হয়। কখনো দুজন শ্রমিককে আবার কখনো পাঁচজন শ্রমিককে ছুটি দেওয়া হয়। এগুলো কারখানার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও গাফিলতির কারণে হচ্ছে। কারখানা থেকে তারা ওই কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান।
শ্রমিকরা আরও বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। আমাদের শ্রমিকের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। নাইট ডিউটি শেষে নিরাপত্তার সঙ্গে বাসায় পৌঁছে দেওয়া কারখানা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। একজন শ্রমিককে ছিনতাইকারীর হামলায় জীবন দিতে হয়েছে। আমরা হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।
এদিকে, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সড়িয়ে দেয়। পরে দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের মাথা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে নিশ্চিত করে বলা যাবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি আমরা দেখছি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, এক শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। আমরা তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।