Logo
Logo
×

শেষ পাতা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: বগুড়া-১

জামায়াত প্রার্থী চূড়ান্ত বিএনপিতে দৌড়ঝাঁপ

মো. নাজমুল হুদা নাসিম

মো. নাজমুল হুদা নাসিম

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জামায়াত প্রার্থী চূড়ান্ত বিএনপিতে দৌড়ঝাঁপ

নির্বাচন কমিশন গঠন ও জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য দুটি সময় ঘোষণার পর বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে নামতে শুরু করেছেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও বিএনপির কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী হাইকমান্ড তথা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছেন। তারা বলছেন, দল যাকে টিকিট দেবে, তিনিই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিএনপি তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ইসলামি জলসা, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বগুড়া-১ আসনের সংসদ-সদস্যের মৃত্যুর কারণে এখানে একবার উপনির্বাচন হয়। সবমিলিয়ে ১৩ বার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছয়বার, বিএনপি পাঁচবার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী দুবার নির্বাচিত হন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মফিজ আলী চৌধুরী, ১৯৭৯ সালে বিএনপির আবদুল আলীম, সীমানা পরিবর্তনের পর ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল মোমিন নির্বাচিত হন। এরপর আসনটি বিএনপির দখলে চলে যায়। ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম সংসদ-সদস্য হন। পরপর চারটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে যায়। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুর পর ২০২০ সালের ১৫ জুলাই উপনির্বাচনে স্ত্রী সাহাদারা মান্নান শিল্পী নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সাহাদারা মান্নান শিল্পী পুনরায় নির্বাচিত হন। তবে তার স্বজনপ্রীতির কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধ উপেক্ষা করে ছেলে সাখাওয়াত হোসেন সজলকে সারিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করেন। বর্তমানে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা মাথায় নিয়ে তিনি পালিয়ে রয়েছেন।

আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন : জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, সাবেক এমপি কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান হিরু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম টিটু, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, মেধা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাদী আলম লিপি প্রমুখ। তবে অন্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নাম এখনো শোনা যায়নি।

পূর্ব বগুড়ার বাঙালি ও যমুনা নদী ভাঙনকবলিত বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনটি মূলত বিএনপির। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বেশ কয়েকবার এ আসনে নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান তিনদফা নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তার স্ত্রী সাহাদারা মান্নান এমপি নির্বাচিত হন।

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাবেক সংসদ-সদস্য সাহাদারা মান্নানের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বাদে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র থেকে অনেকে প্রার্থী হবেন। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে।

বিএনপি তৃণমূল থেকে জেলা পর্যন্ত মাঠ গুছিয়ে নিয়েছে। বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জামায়াতের একমাত্র প্রার্থী জেলা শাখার সাবেক আমির অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন দলের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর প্রচারণা শুরু করেছেন। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন গত উপনির্বাচনের প্রার্থী একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির। তিনি বলেন, ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু করে ৪৪ বছর সুখে-দুঃখে বিএনপির সঙ্গে আছি। দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে কাজ করছি। ভোটারদের কাছে ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। দল মনোনয়ন দিলে অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। জয়লাভের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ-সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দল মনোনয়ন দিলে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদুর রহমান হিরুও রয়েছেন প্রচারণায়। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তৌহিদুল ইসলাম টিটু মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। অপর প্রার্থী মোশাররফ হোসেন চৌধুরীও মনোনয়ন চাইবেন। বিএনপির প্রার্থীরা বলছেন, আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ছাড়া এলাকার নদী ভাঙনরোধসহ অন্যান্য উন্নয়নে কাজ করেনি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুযোগ দিলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তারা বগুড়াকে এগিয়ে নেবেন। যমুনা ও বাঙালি নদী ভাঙনকবলিত সারিয়াকান্দি-সোনাতলা উপজেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করবেন।

গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন মেধা গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহজাদী আলম লিপি। তিনি নৌকার প্রার্থী সাহাদারা মান্নানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। আগামী নির্বাচনে লিপি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে তার স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আ স ম আবদুল মালেক বলেন, এ জেলায় সাতটি আসনের মধ্যে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহাপুর) আসন বাদে অবশিষ্ট আসনে তাদের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপরও মাঠ জরিপ অনুসারে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন।

ঘটনাপ্রবাহ: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন


আরও পড়ুন

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম