Logo
Logo
×

শেষ পাতা

নেই চিরচেনা যানজট আর ভোগান্তি

ঈদযাত্রায় সড়কে স্বস্তির নিশ্বাস

ওভারপাস, সেতু ও ফ্লাইওভার উদ্বোধনের সুফল * তৎপর হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক, উড়ছে ড্রোন * মহাসড়কে থাকবে তিন স্তরের ব্যবস্থা-হাইওয়ে পুলিশ প্রধান

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদযাত্রায় সড়কে স্বস্তির নিশ্বাস

প্রতিবছর ঈদের আগে দেশের বেশকিছু মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা গেলেও এ বছর সেই চিত্র নেই। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে অসহনীয় দুর্ভোগে মানুষের নাভিশ্বাস উঠত। এবার ঈদের ঠিক আগে আগে মহাসড়কে নির্মিত বেশ কয়েকটি ওভারপাস, সেতু ও ফ্লাইওভার যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়ায় এর সুফল পাচ্ছেন ঘরমুখী মানুষ। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, যানজট নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার, ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি মহাসড়কে চলতে বাধা দেওয়া-এসব উদ্যোগের ফলেই বিগত আট-দশ বছরের মতো অসহনীয় যানজট এবার দেখা যাচ্ছে না। তাই ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা এক দশকের মধ্যে এবারই হচ্ছে সবচেয়ে স্বস্তির। তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নতুন করে সড়ক বিভাজক নির্মাণ করায় ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের রোববার একটু ভোগান্তি পোহাতে হয়।

যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাজীপুরে স্বস্তি : ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও ঘরমুখী মানুষের পথযাত্রায় অনেকটাই স্বস্তি মিলেছে। ঈদ সামনে রেখে সম্প্রতি বিআরটি প্রকল্পের ৭টি ফ্লাইওভার যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে রোববার সকাল থেকে এ সড়কে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সড়ক বিভাজক নির্মাণ করায় ওই সড়কে চলাচলকারী মানুষকে একটু ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট লেগে ছিল। পরে পুলিশের সহায়তায় ১০টার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় উড়ালসড়ক নির্মাণ করায় ওই এলাকায় যানজট নেই। কারণ, উড়ালসড়কটি দিয়ে জয়দেবপুর থেকে সরাসরি টাঙ্গাইলের দিকে এবং টাঙ্গাইলের দিক থেকে জয়দেবপুরের দিকে যাতায়াতকারীরা সরাসরি চলে যেতে পারছেন। এছাড়া সাভারের নবীনগরের দিকে যাতায়াতকারীরা ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে চলে যাচ্ছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানবাহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আশা কারি, ঈদ উপলক্ষ্যে একসঙ্গে সবার ছুটি এবং বাড়ি যাওয়ার জন্য সড়কে একটু চাপ থাকলেও কোনো জ্যাম থাকবে না। এর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়াসহ আমাদের অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

চন্দ্রা এলাকায় গাড়ির ধীরগতি : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তিন শতাধিক শিল্প-কলকারখানা ছুটি হওয়ায় চন্দ্রা এলাকাজুড়ে যাত্রী ও গণপরিবহণের চাপ বেড়েছে। মহাসড়কে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। রোববার ভোর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলাকাজুড়ে এমনটি দেখা গেছে। তবে মহাসড়কে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিভাইডার ও পর্যায়ক্রমে কারখানা ছুটি হওয়ায় যানজট তেমন প্রভাব ফেলবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, গতবারের চেয়ে এবার বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

মৌচাক থেকে চন্দ্রা, চন্দ্রা থেকে মির্জাপুর ও চন্দ্রা থেকে বাইপাইল পর্যন্ত ধীরগতিতে চলছে গণপরিবহণ। আগের মতো এবারও যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা।

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেন, এবার মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ করতে ড্রোনসহ ৩২টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। চন্দ্রা এলাকাজুড়ে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। বেশি ভাড়া নিচ্ছে-এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যানজট নিরসনে ড্রোন : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করছে কথা বলা ড্রোন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি কমিয়ে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিবছরের মতো এবারও নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশ, কালিয়াকৈর থানা পুলিশ, জেলা ট্রাফিক পুলিশ, এপিবিএন এবং সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মহাসড়কে কাজ করছেন। বিশেষ এই ড্রোনটি একবার চার্জে ৩০ মিনিট আকাশে উড়তে পারে। ড্রোনটিতে রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক ক্যামেরা ও তারবিহীন স্পিকার। ড্রোনটি ১৬ কেজি ভার বহন করতে পারে। মহাসড়কের কোথাও দুর্ঘটনা বা ইচ্ছাকৃতভাবে যানজট করার চেষ্টা করলে ড্রোন নির্দিষ্ট বাহনটিকে শনাক্ত করছে। ড্রোনে থাকা স্পিকারের মাধ্যমে ওই বাহনটিকে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে সতর্কবার্তা বা দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে বাহনের নম্বর ও চালকের ফটো সংরক্ষণ করছে। পরবর্তী সময়ে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছে।

মহাসড়কে তিন স্তরের ব্যবস্থা : হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন, ঈদ ঘিরে মহাসড়কে তিন স্তরের ব্যবস্থা থাকবে। আমরা ঈদের আগে যেমন আছি, ঈদের দিন থাকব, ঈদের পরও হাইওয়ে পুলিশ মাঠে থাকবে। কারণ, ঈদের আগে সবাই দু-একদিনের মধ্যেই বাড়িতে ফেরে। আসার সময় কিন্তু এমনটা হয় না। অনেকেই ধীরে ধীরে শহরে ফেরে। ফলে রাতে সড়ক ফাঁকা থাকে। তাই অনেকে ওভার স্পিডে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করে এবং দুর্ঘটনার সংখ্যা ঈদের পরেই বেড়ে যায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন শেষে কুমিল্লার আলেখারচর ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান এবং হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খাইরুল আলমসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মহাসড়কে এক হাজার ৪২৭টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। প্রতিটি হাইওয়ে পুলিশ সদস্যকে বডি ওন ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের জেলার সড়কগুলোয় কিশোররা হেলেদুলে মোটরসাইকেল চালায়। এটা খুবই ভয়ংকর। আমি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সবাইকে অনুরোধ করব বিষয়টি যেন খেয়াল রাখে।

দাউদকান্দি অংশে যানজট নেই : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে প্রতিবছর ঈদে ঘরমুখো মানুষকে যানজটের কবলে পড়তে হলেও এ বছর সেই চিত্র নেই। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও মহাসড়কে লক্কড়ঝক্কড় যানবাহন চলাচলে হাইওয়ে পুলিশ বাধা দেওয়ায় দাউদকান্দি অংশে যানজট নেই। রোববার দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম বলেন, যাত্রীদের বিড়ম্বনা কমাতে এবার হাইওয়ে পুলিশ নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে যানজট নেই : মহাসড়কের কোথাও কোনো ধীরগতি বা যানজটের সৃষ্টি হয়নি। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে শনিবার পাঁচিলা, মুলিবাড়ি ও দাদপুর ওভারপাস এবং দাদিয়া সেতু উদ্বোধন করায় এবার যানজট দেখা যাচ্ছে না।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব সড়কে যানজট নেই : ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে অন্য বছর ঈদযাত্রায় লাখ লাখ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হলেও এ বছর এখন পর্যন্ত স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে উত্তরবঙ্গগামী মানুষ। রোববার সকালে মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বিপিএম।

যানজট না হওয়ার কারণ হিসাবে পুলিশ, চালক ও যাত্রীরা বলছেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সড়ক বিভাগ ও সেতু কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেনের সুবিধা পাচ্ছে ঘরমুখো মানুষ। এবারের ঈদে বেসরকারি ছুটি বেশি। যানজট এড়াতে রাতে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তের সংযোগ সড়ক একমুখী করে দেওয়া হয়। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন চার লেনের সড়ক দিয়ে দ্রুত কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পর্যন্ত চলে আসতে পারে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা যানবাহন সেতু পার হওয়ার পর ভূঞাপুর হয়ে বিকল্প রাস্তয় এলেঙ্গা পর্যন্ত চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার ওসি আলমগীর আশরাফ বলেন, সকাল থেকেই মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতে পরিবহণ চলাচল করছে।

জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, মির্জাপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত গুরুপূর্ণ পয়েন্টে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে তিনদিন করে মহাসড়কে আমরা কোনো ট্রাক চলাচল করতে দিচ্ছি না। মহাসড়কে কোনো থ্রি-হুইলার উঠতে দিচ্ছি না।

Jamuna Electronics
wholesaleclub

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম