
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪৯ এএম

আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ওপেনএআইয়ের নতুন ইমেজ জেনারেশন টুল বাজারে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিবলি স্টাইলে তৈরি ছবি ভাইরাল হতে শুরু করেছে। স্টুডিও জিবলি, যা স্পিরিটেড এওয়ে, মাই নেইবর টটোরো, মুভিং ক্যাসেলের মতো কালজয়ী অ্যানিমেশন নির্মাণের জন্য পরিচিত, তাদের স্বতন্ত্র শিল্পশৈলী নিয়েই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। ব্যবহারকারীরা ইলন মাস্ক, ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমনকি ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার মতো সংবেদনশীল বিষয়েও এই শৈলীতে ছবি তৈরি করে পোস্ট করেছেন। প্রযুক্তিটি যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, তেমনি এর কপিরাইট ও নৈতিক দিক নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক মামলা চলছে। অনুমতি ছাড়াই কপিরাইটেড কাজ ব্যবহার করে এআই প্রশিক্ষণের অভিযোগ উঠেছে, যা শিল্পীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গেই ২০১৬ সালের একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যেখানে স্টুডিও জিবলির কিংবদন্তি পরিচালক হায়াও মিয়াজাকি এআই-জেনারেটেড আর্ট দেখে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘এটি জীবনের প্রতি অসম্মান।’ এই ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান তার এক্স (পূর্বে টুইটার) প্রোফাইল ছবিও জিবলি স্টাইলে পরিবর্তন করেছেন। এমনকি হোয়াইট হাউজও এক্সে একটি বিতর্কিত জিবলি স্টাইলের ছবি পোস্ট করেছে, যেখানে এক বিদেশিকে নির্বাসনের আগে হাতকড়া পরিয়ে দিচ্ছেন মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মী। প্রথমে এটি ফ্রি থাকলেও জনপ্রিয়তা বাড়ায় ওপেনএআই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন থেকে শুধু পেইড ইউজাররাই এই ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন। এদিকে, কপিরাইট ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউজের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে ওপেনএআই। তারা চাইছে, কপিরাইটকৃত কনটেন্ট ব্যবহারে ‘ফেয়ার ইউজ’ নীতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। অন্যদিকে, ব্যবসায়িক দিক থেকেও ওপেনএআই এক বিশাল লাফ দিতে চলেছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের সফটব্যাংক গ্রুপের নেতৃত্বে কোম্পানিটি ৪০ বিলিয়ন ডলারের ফান্ডিং সম্পন্ন করার পথে রয়েছে, যা কোনো স্টার্টআপের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফান্ডিং রাউন্ড হতে পারে। ২০২৪ সালে ওপেনএআইয়ের রাজস্ব ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, আর ২০২৫ সালে তা ২.৭ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এআই-নির্ভর সৃজনশীলতার এই নতুন যুগ কল্পনাশক্তিকে প্রসারিত করলেও, এর নৈতিকতা ও আইনগত দিক নিয়ে বিতর্ক যে শুধু শুরু হয়েছে, তা-ই নয়, বরং আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।