
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪৯ এএম

আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর অদূরে টঙ্গীতে অবস্থিত টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) একসময় বাংলাদেশের প্রযুক্তি শিল্পের অগ্রদূত ছিল। ১৯৬৩ সালে জার্মানির সিমেন্সের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটি একসময় ল্যান্ডফোন উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে পড়েছে। এবার সরকার টেশিসকে হাই-টেক পার্কে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে, যা দেশের প্রযুক্তি উৎপাদন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফাইজ তাইয়েব আহমেদ ১ এপ্রিল তার ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, সরকার টেশিসকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। টেলিকম সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান ও আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এ উদ্যোগে তার সহযোগী হিসাবে কাজ করছেন। মূলত টেশিসকে প্রথমে একটি কার্যকরী মিড-টেক বা লো-টেক উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিগত সময়ে টেশিস বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। দোয়েল ল্যাপটপ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তি খাতের বিকাশের প্রচেষ্টা চালানো হলেও বাস্তবে উৎপাদনের বেশিরভাগ অংশ মালয়েশিয়ায় সম্পন্ন হয়েছিল। এছাড়া টেশিসের জমি বেহাত হওয়া এবং উৎপাদনশীল খাতগুলোতে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক হতে পারেনি।
তবে এবার সরকার টেশিসকে লাভজনক করতে ও উৎপাদনশীল খাতে যুক্ত করতে নতুন পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন এক্সেসরিজ, ওয়াইফাই রাউটার, চার্জার, ইউএসবি কেবল, পাওয়ার অ্যাডাপ্টার, সাধারণ পিএবিএক্সসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনের জন্য সংস্থাটিকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব পণ্য সম্পূর্ণভাবে আমদানি নির্ভর, যা দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
উদ্যোক্তারা মনে করছেন, টেশিস পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশে প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশীয় প্রযুক্তি খাত আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষত, চাইনিজ ম্যানুফ্যাকচারিং মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের এ উদ্যোগ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে টেশিস শুধু একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে উঠবে না, বরং বাংলাদেশকে প্রযুক্তি উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল করতে বড় ভূমিকা রাখবে।