
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪৯ এএম

আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
আরও পড়ুন
সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে চীনের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত বিসমাথভিত্তিক ট্রানজিস্টর। এ নতুন প্রযুক্তি প্রচলিত সিলিকনভিত্তিক ট্রানজিস্টরের তুলনায় অধিক গতিসম্পন্ন ও শক্তি-সাশ্রয়ী হওয়ায় বৈশ্বিক চিপ শিল্পে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, বিসমাথ ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি চিপ সিলিকন চিপগুলোর তুলনায় ৪০ শতাংশ দ্রুত কাজ করবে এবং ১০ শতাংশ কম শক্তি খরচ করবে।
নতুন ধরনের ট্রানজিস্টর : এ ট্রানজিস্টরটি গেট-অল-অ্যারাউন্ড ফিল্ড-এফেক্ট ট্রানজিস্টর (জিএএএফইটি) ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত ফিনএফইটি ট্রানজিস্টরের তিন দিকের গেটের পরিবর্তে, জিএএএফইটি ট্রানজিস্টরে চারপাশে গেট থাকে, যা বিদ্যুৎ চলাচলের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং ইলেকট্রনের বিচ্ছুরণ কমিয়ে দেয়। ফলে দ্রুত সুইচিং স্পিড ও কম শক্তি খরচ সম্ভব হয়।
বিসমাথের সুবিধা : বিসমাথ অক্সিসেলেনাইড ট্রানজিস্টরটি সিলিকনের তুলনায় অধিক নমনীয় এবং ইলেকট্রনের গতিবিধির ক্ষেত্রে কম প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। এটি দ্রুত তথ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম এবং উচ্চ ডাইইলেকট্রিক কনস্ট্যান্ট থাকায় শক্তির অপচয় কম হয়। পাশাপাশি, উন্নত ন্যানোফ্যাব্রিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে একে আণবিকভাবে পাতলা করে তৈরি করা হয়েছে, যা কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলবে।
সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ : বিসমাথ ট্রানজিস্টরের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উৎপাদন ব্যয় ও প্রযুক্তিগত জটিলতা। বর্তমানে এ ট্রানজিস্টর তৈরি করতে বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি ও অত্যন্ত সূক্ষ্ম প্রযুক্তি প্রয়োজন, যা গণউৎপাদনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া, বর্তমান সিলিকনভিত্তিক প্রযুক্তির সঙ্গে বিসমাথ ট্রানজিস্টরের সামঞ্জস্যতা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে হাইব্রিড প্রযুক্তির মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হতে পারে।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্রভাব : যদি বিসমাথ ট্রানজিস্টর সফলভাবে বাণিজ্যিকীকরণ করা যায়, তাহলে এটি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে পারে। চীনের জন্য এটি একটি বড় অগ্রগতি, কারণ এ প্রযুক্তি দেশটিকে বৈশ্বিক চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিকল্প চিপ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করবে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও ভবিষ্যৎ : বিসমাথ ট্রানজিস্টরের প্রভাব শুধু প্রচলিত ইলেকট্রনিকসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জন্য উচ্চ গতির ও কম শক্তি খরচযুক্ত ট্রানজিস্টরের প্রয়োজন, যেখানে বিসমাথের বৈশিষ্ট্য উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া, ৬জি নেটওয়ার্কের মতো ভবিষ্যৎ যোগাযোগ প্রযুক্তিতেও বিসমাথভিত্তিক ট্রানজিস্টরের ব্যবহার বাড়তে পারে।
বিসমাথ ট্রানজিস্টর প্রযুক্তি শুধু চীনের জন্য নয়, বরং পুরো প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। এটি কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হলে আগামী দিনে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।