জুলুমের ভয়াবহ পরিণাম

মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জুলুম অর্থ অন্যায়-অবিচার, অত্যাচার, নিপীড়ন ইত্যাদি। যার প্রতি জুলুম করা হয়, তাকে মজলুম বলা হয়। কারও প্রতি অন্যায়-অবিচার, অত্যাচার-নির্যাতন কিংবা কারও হক নষ্ট করাকে ইসলামে জুলুম বলে। জুলুম কী, জালেম কে-এর সঠিক পরিচয় তুলে ধরেছে আল কুরআন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তার চেয়ে অধিক জালেম কে, যে আল্লাহর মসজিদগুলো তার নাম স্মরণ করা থেকে বাধা দেয় এবং তা বিরান করতে চেষ্টা করে?’ (সূরা বাকারা : ১১৪)। আল্লাহর আইন যারা অমান্য করে, নিজের তৈরি করা আইন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে, তারাই জালেম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তাওরাতে আমি ইহুদিদের জন্য লিখে দিয়েছিলাম, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং সব ধরনের জখমের জন্য সমপর্যায়ের বদলা। তারপর যে ব্যক্তি ওই শাস্তির পরিমাণ সদকা করে দেবে, তার জন্য তা কাফফারা হবে। আর যারা আল্লাহর আইন অনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই জালেম।’ (সূরা মায়িদা : ৪৫)। জালেমের পরিচয় সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তার চেয়ে বড় জালেম আর কে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে বা তার আয়াতগুলো অস্বীকার করে? নিশ্চয় জালেমরা সফলকাম হয় না।’ (সূরা আনআম : ২১)।
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জালেমরা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনো বেখবর মনে করো না। তাদের তো আল্লাহ ওইদিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়েছেন, যেদিন চোখগুলো বিস্ফোরিত হবে। তারা মাথা ওপরে তুলে ভীত-বিহ্বল মনে দৌড়াতে থাকবে। তাদের দিকে তাদের দৃষ্টি ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর উড়ে যাবে। মানুষকে ওইদিনের ব্যাপারে সতর্ক করুন, যেদিন তার কাছে আজাব আসবে। তখন জালেমরা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের সামান্য মেয়াদ পর্যন্ত সময় দিন, যাতে আমরা আপনার আহ্বানে সাড়া দিতে এবং নবিদের অনুসরণ করতে পারি। তোমরা কি এর আগে শপথ করতে না, তোমাদের দুনিয়া থেকে যেতে হবে না?’ (সূরা ইবরাহিম : ৪২-৪৪)। জালেমদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘অভিযোগ কেবল তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের ওপর অত্যাচার চালায় এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সূরা শুরা : ৪২)।
যারা আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে, দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণ করে, দ্বীনের কর্মীদের ওপর অত্যাচার করে, আল্লাহতায়ালা দুনিয়ার জীবনে তাদের লাঞ্ছিত-অপমানিত করবেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সেদিনটি আসার আগেও জালেমদের জন্য আজাব আছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।’ (সূরা তুর : ৪৭)। যারা ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ করেছে, ইসলামি আন্দোলনের কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে, তাদের আল্লাহতায়ালা ধ্বংস করেছেন। তাদের সেই স্মৃতি পৃথিবীর বুকে রেখেছেন; যা দেখে অনেক মানুষ আজও হেদায়েত পায়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এ চক্রান্ত তো তারা করল এবং তারপর আমি একটি কৌশল অবলম্বন করলাম, যার কোনো খবর তারা জানত না। অবশেষে তাদের চক্রান্তের পরিণাম কী হলো দেখে নাও। আমি তাদেরকে ও তাদের সমগ্র জাতিকে ধ্বংস করলাম। তাদের জুলুমের কারণে ওই যে তাদের ঘর শূন্য পড়ে আছে। যারা জ্ঞানবান, তাদের জন্য এতে রয়েছে শিক্ষণীয় নিদর্শন।’ (সূরা নামল : ৫০-৫২)।
যারা মজলুমের ওপর অত্যাচার করে, সমাজের অসহায় মানুষদের ওপর জুলুম করে, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করে, এসব জালেমকে আল্লাহতায়ালা কঠিন শাস্তি দেবেন। এদের আজাব লঘু করা হবে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জালেমরা যখন একবার আজাব দেখবে, তখন তাদের আজাব আর হালকা করা হবে না এবং তাদেরকে এক মুহূর্তের জন্য বিরামও দেওয়া হবে না।’ (সূরা নাহল : ৮৫)। যে বা যারাই দুর্বল ও এতিমের সম্পত্তি গ্রাস করবে, জোরপূর্বক তুলে নিয়ে কোনো মানুষকে হত্যা করবে, কোনো নারীকে ধর্ষণ করবে, রাতের অন্ধকারে বিষ প্রয়োগ করে পুকুরের মাছ মেরে ফেলে আর্থিক ক্ষতি করবে ও মানুষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করবে, তাদের কাউকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন শাস্তি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা জুলুম করেছে, তাদেরকে কঠিন আজাব দ্বারা পাকড়াও করব। কারণ, তারা পাপাচার করত।’ (সূরা আরাফ : ১৬৫)।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক, প্রাবন্ধিক ও গণমাধ্যমকর্মী