
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:০২ পিএম

বাসস
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিশ্বকে বদলে দিতে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি শনিবার বেইজিংয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ড. ইউনূস বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু শেখার জায়গা নয়, এটি স্বপ্ন দেখারও জায়গা। আপনি যদি স্বপ্ন দেখেন, তবে তা ঘটবেই। আপনি যদি স্বপ্ন না দেখেন, তবে তা কখনো ঘটবে না।
শিক্ষার্থীদের অতীতের দিকে নজর দেওয়ার অনুরোধ করে তিনি বলেন, যা কিছু ঘটেছে, কেউ না কেউ আগে তা কল্পনা করেছিল। কল্পনা যে কোনো কিছু থেকে বেশি শক্তিশালী। তিনি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং অকল্পনীয় বিষয়ে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করেন, যদিও অনেক সময় এটি অসম্ভব মনে হতে পারে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, কিন্তু, মানবসভ্যতার যাত্রা হলো অসম্ভবকে সম্ভব করা। সেটাই আমাদের কাজ। আর আমরাই তা করতে পারি। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলের সভাপতি হে গুয়াংচাই ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট গং চিহুয়াং বক্তব্য দেন। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, উদ্ভাবন ও উৎকর্ষতার কেন্দ্র হিসাবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করতে পেরে তিনি গর্বিত।
ড. ইউনূস বলেন, এই সম্মাননা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় তার সেই প্রতিশ্রুতির কথা, যা তিনি গত বছর বাংলাদেশে রূপান্তরকারী পরিবর্তনের অগ্রভাগে থাকা লাখ লাখ যুবকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য করেছিলেন। তিনি বলেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার, যে দেশটি দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত হবে।
প্রধান উপদেষ্টা তার সরকারের সংস্কার কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যেখানে উদ্যোক্তা বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে-সিনহুয়াকে ইউনূস : চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে বলে আশা করেছেন ড. ইউনূস। ‘চীনকে ভালো বন্ধু হিসাবে দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আমাদের সম্পর্ক বছরের পর বছর ধরে খুবই শক্তিশালী। আমাদের ব্যবসা খুবই শক্তিশালী এবং চীনের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা থেকে আমরা উপকৃত হচ্ছি। ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ হলো একটি নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠন করা। জনগণ আশা করে যে তারা নিজ দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারবে।
বাংলাদেশ ও চীনের বিগত ৫০ বছরের সম্পর্ক চমৎকার ছিল উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ৫০ বছর আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন, বৃহত্তর ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য উন্মুখ আমরা। এটাই দেখার অপেক্ষায় আছি।
চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান : নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ যেন পশ্চিমা দেশ ও এশিয়ায় পণ্য রপ্তানি করতে পারে সে লক্ষ্যে এ দেশে বিনিয়োগ করতে এবং দেশটিকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা তার চীন সফরকালে সে দেশের ১শরও বেশি শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা ও সিইওদের সঙ্গে চারটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশন করেন। সেখানে তিনি তুলে ধরেন, বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।
প্রধান উপদেষ্টা চীনা কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের সুবিধার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে কোনো বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা নেই এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম সেরা প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যিক সুবিধা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং নেপাল ও ভুটানের পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের প্রবেশদ্বার উল্লেখ করে ইউনূস বলেন, এখন বাংলাদেশে আপনার কারখানা স্থাপনের সেরা সময়।
দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা : চীনে ৪ দিনের সরকারি সফর শেষে শনিবার দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাত ৮টা ১০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৫৭ মিনিটে বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চিফ প্রটোকল অফিসার হং লেই বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে বিদায় জানান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।