
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১৪ পিএম
বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক
দুই দিনব্যাপী বৈঠকে যোগ দেন থিঙ্কট্যাঙ্ক গ্রুপের সদস্যরা

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী গোলটেবিল আলোচনা ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক নিয়ে ঢাকায় নানা কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত বৈঠকটির বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনো কিছু প্রকাশ করা হয়নি। দিল্লির প্রাণকেন্দ্র লোদি গার্ডেন সংলগ্ন ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে (আইআইসি) গত ২৬ ও ২৭ মার্চ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া সাবেক একজন শীর্ষ কূটনীতিবিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে এ বৈঠকটি ছিল বাংলাদেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
সূত্র বলছে, ভারত সরকার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগে সব ধরনের সমর্থন দিয়েছে। এ নিয়ে কোনো রাখঢাক ছিল না। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজ (মাকাইয়াস) ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা। তাদের সঙ্গে আরএসএস প্রভাবিত ‘আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগ পরিষদ’ (এআরএসপি) ও কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস’ (সিএসআইআর) এই অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিল সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা ‘নলেজ পার্টনার’ হিসাবে।
বাংলাদেশে বিদ্যমান তথাকথিত ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা’ নিয়ে ভারতে ও দেশের বাইরে কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটিই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। তাছাড়া দু’দিনব্যাপী এ গোলটেবিল বৈঠকের শেষদিন রুদ্ধদ্বার বৈঠকও হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ভারতের বিভিন্ন থিঙ্কট্যাঙ্ক, যারা বাংলাদেশ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছেন। তবে কি আলোচনা হয়েছে সেটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ভারত সরকারের দিক থেকে এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ। ভারতের প্রথমসারির সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্লেষক, সাবেক কূটনীতিবিদ, থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলো, সিনিয়র সাংবাদিক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সেনা কর্মকর্তারা দুদিনের আলোচনায় বাংলাদেশ পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন।
আলোচনার বিভিন্ন পর্বে মূল বিষয়গুলো নিয়ে প্যানেলিস্টরা বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। ২৬ মার্চ সকালে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাকাইয়াসের কার্যনিবাহী পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রাধারমণ চক্রবর্তী। এরপর ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রির উদ্বোধনী ভাষণের মধ্য দিয়ে আলোচনার সূচনা হয়।
যুগান্তরের পক্ষ থেকে বৈঠকের আলোচনা প্রসঙ্গে শনিবার সন্ধ্যায় জানতে চাইলে সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি টেলিফোনে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
প্রথম সেশনের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ডেভেলপমন্টসমূহ’। সঞ্চালনা করেন মাকাইয়াসের ‘আজাদ ফেলো’ অধ্যাপক রূপেন্দ্র কুমার চ্যাটার্জি। আলোচনায় অংশ নেন সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী দেবেন্দ্র শর্মা, ইকোনমিক টাইমসের কূটনৈতিক সম্পাদক দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কূটনৈতিক সংবাদদাতা শুভজিৎ রায়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশনের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মৌলবাদ ও সংখ্যালঘুদের অবস্থা’। সাবেক রাষ্ট্রদূত বীণা সিক্রি, অধ্যাপক রঞ্জন মল্লিক ও মাকাইয়াসের পরিচালক ড. স্বরূপ প্রসাদ ঘোষকে নিয়ে গঠিত প্যানেলের সঞ্চালক ছিলেন লেখক-সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক এমপি স্বপন দাশগুপ্ত।
দিনের দ্বিতীয়ার্ধে তৃতীয় সেশনটিতে ‘বাংলাদেশের সংকটে বাইরের শক্তিগুলোর ভূমিকা’ নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল ছিলেন সঞ্চালকের চেয়ারে। আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক জয়ন্ত রায়চৌধুরী, জেএনইউ-এর অধ্যাপক শরণ সিং, মনন দ্বিবেদী ও সাবেক রাষ্ট্রদূত আর কে রায়না; যিনি বাংলাদেশে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।
প্রথমদিনের চতুর্থ তথা শেষ সেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব কী পড়বে?’ দিল্লির থিঙ্কট্যাঙ্ক আরআইএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক শচীন চতুর্বেদীর সঞ্চালনায় ওই আলোচনাতে অংশ নেন জম্মু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ দীপঙ্কর সেনগুপ্ত, আরআইএসের অর্থনীতিবিদ ড. সব্যসাচী সাহা এবং ‘দ্য হিন্দু বিজনেসলাইনে’র সাংবাদিক প্রতিমরঞ্জন বোস।
দ্বিতীয় দিনের (২৭ মার্চ) আলোচনা শুরু হয় ‘বাংলাদেশের প্রতিবেশীদের জন্য বর্ডার ম্যানেজমেন্ট (সীমান্ত ব্যবস্থাপনা)’ নিয়ে। পন্ডিচেরি ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গুরমিত সিং এ আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন। এতে অংশ নেন দিল্লির নামি থিঙ্কট্যাঙ্ক আইডিএসএ-র দুজন ফেলো পুষ্পিতা দাস ও উত্তম কুমার সিনহা এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক এসকে সুদ।
আলোচনার শেষ অ্যাকাডেমিক সেশনটির বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশ সংকটের সিকিউরিটি ইমপ্লিকেশন (নিরাপত্তাগত প্রভাব)’। ভারতের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী জেনারেল ভি কে চতুর্বেদীর সঞ্চালনায় এই আলোচনায় অংশ নেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল নিতিন কোহলি, মনোহর পারিকর, আইডিএসএ’র দুজন সিনিয়র গবেষক তথা বাংলাদেশ ওয়াচার স্মৃতি পট্টনায়ক ও রাজীব নয়ন।