
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৩৬ এএম

শাইখ মুহাম্মাদ জামাল উদ্দীন
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
-67e3105ede396.jpg)
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন
কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব, যা সর্বশেষ নবি ও রাসুল মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে। এরপর কিয়ামত পর্যন্ত আর নতুন কোনো কিতাব ও নতুন কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না; এটিই কিয়ামত পর্যন্ত সব মানুষের জন্য দুনিয়ার শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র পথ। আল্লাহ বলেন, রমজান মাস, যে মাসে নাজিল করা হয়েছে আল কুরআন, মানুষের জন্য হেদায়েতরূপে এবং পথনির্দেশনার প্রমাণ ও সত্য-মিথ্যা পার্থক্য নির্ণয়কারী হিসাবে (সুরা বাকারা-২৮৫)।’
কুরআনের তেলাওয়াত ছাড়া প্রধান ইবাদত নামাজও আদায় হয় না। এজন্যই সহিহভাবে কুরআন তেলাওয়াত শিখতে হবে। কমপক্ষে নামাজ পড়তে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু শেখা ফরজে আইন। যে মানুষ যত কুরআন ধারণ করবে, তার সম্মানও তত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে অন্তরে কুরআন নেই, তা যেন পরিত্যক্ত বিরান বাড়ি।’ যারা কুরআন তেলাওয়াত, চর্চা ও অনুশীলন করবে না, তাদের বিরুদ্ধে রোজ কিয়ামতে আল্লাহর আদালতে প্রিয় রাসুল (সা.) অভিযোগ করবেন। রাসুলে আকরাম (সা.) বলবেন, ‘হে আমার রব! এই লোকেরা কুরআন পরিত্যাগ করেছিল (সুরা ফুরকান-৩০)।’ কুরআন মজিদ শিক্ষা করা ফরজ, শিখে ভুলে গেলে মারাত্মক গুনাহ হয়; অশুদ্ধ বা ভুল পাঠ করলে কঠিন পাপের কারণ হতে পারে। তাই কুরআন বিশুদ্ধভাবে শেখা ও সুন্দরভাবে তেলাওয়াত করা জরুরি। যারা পড়তে জানেন না, তাদের শিখতে হবে, যারা শিখে ভুলে গেছেন, তাদের আবার পড়তে হবে; যারা ভুল পড়েন, তাদের সহিহভাবে পড়া শিখতে হবে।
রমজানকে বলা হয় কুরআনের মাস। আর কুরআন যেহেতু এসেছে হেদায়েতের বার্তা নিয়ে, তাই রমজানকে হেদায়েতের মাস নামেও অভিহিত করা হয়। হেদায়েতের এ মাসে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি কুরআনের চর্চায় আত্মনিয়োগ করা হবে কামিল মুমিনের বৈশিষ্ট্য। রমজান কুরআন নাজিলের মাস, তাই কুরআনের সঙ্গে গভীর সখ্য গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ এটাই। মনে রাখতে হবে, বুঝে বুঝে কুরআন পড়ার কোনো বিকল্প নেই। যতটুকু সম্ভব প্রতিদিন বুঝে বুঝে কুরআন পড়ার চেষ্টা করতে হবে এ মাসে। কুরআনের প্রথম বাণী ‘ইকরা’ পড়। এর অর্থ শুধুই মুখস্থ তেলাওয়াত নয়। বুঝে বুঝে কুরআন পাঠও এর অন্তর্ভুক্ত। সিয়ামের মাসে মুসলিমবিশ্বের আনাচে-কানাচে কত লোক সালাত কায়েম করে, সিয়াম পালন করে, জাকাত আদায় করে, তসবিহ-তাহলিল আর রুকু-সেজদায় রাত পার করে দেয়। কিন্তু কুরআনের মাসে বুঝে বুঝে কুরআন পড়ার লোক খুবই কম আছে।
না বুঝে কুরআন পাঠের ফজিলত তো অবশ্যই আছে। কিন্তু তা বুঝে কুরআন পাঠের সমান কখনো নয়। আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, হুজুর (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করেছে এবং মুখস্থ করে এটাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে, হালালকে হালাল ও হারামকে হারাম জেনেছে, আল্লাহতায়ালা তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের এমন ১০ জন লোকের মুক্তির জন্য সুপারিশ কবুল করবেন, যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত ছিল। (তিরিমিজি)। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর এ হাদিসটি সুস্পষ্ট বলছে যে, হালাল-হারাম, বৈধ-অবৈধ জানতে হলে বুঝে বুঝে কুরআন পড়তে হবে। রাসুল (সা.)-এর এ হাদিসসহ কুরআন-হাদিসে অংখ্যবার বুঝে বুঝে কুরআন পাঠের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। দয়াময় মাবুদ পবিত্র কুরআনে বুঝে বুঝে কুরআন পাঠের প্রতি কতই না সুন্দরভাবে আহ্বান করেছেন-‘আর থেমে থেমে কুরআন পাঠ কর। আমি অতি শিগ্গির তোমার ওপর একটি দুর্বহ কালাম নাজিল করব। প্রকৃতপক্ষে রাতের বেলা জেগে ওঠা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক বেশি কার্যকর এবং যথাযথভাবে কুরআন পড়ার জন্য উপযুক্ত সময় (সুরা মুজাম্মিল)। তাই সিয়ামের মেবারক এ মাসে বুঝে বুঝে কুরআন পাঠ ও কুরআনের নির্দেশমতো জীবন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রত্যেক মুসলমানকে।
লেখক : চেয়ারম্যান, জামালী তালিমুল কুরআন ফাউন্ডেশন