
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:০০ এএম

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ভুল তথ্য ছড়িয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার চেষ্টা করছে ভারত। দেশটির গণমাধ্যম বাংলাদেশবিরোধী একের পর এক ভুয়া খবর প্রচার করছে। বাংলাদেশে হিন্দুদের মন্দির-প্রতিমা ভাঙচুর, বাড়ি-ঘরে হামলা ও লুটপাট, পাকিস্তানি জাহাজে অস্ত্র আমদানি, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবীকে হত্যা, ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ হওয়াসহ ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন ভুয়া খবর প্রচার করা হয়েছে। এসব তথ্য উঠে এসেছে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে।
তারা বলছে, ১২ আগস্ট থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের গণমাধ্যমে অন্তত ১৩টি ভুয়া খবর পাওয়া গেছে। এসব খবরের মধ্যে ৪৯টি ভারতীয় গণমাধ্যমের নাম উঠে এসেছে। রিপাবলিক বাংলা সর্বাধিক ৫টি গুজব প্রচার করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে হিন্দুস্তান টাইমস, জি নিউজ ও লাইভ মিন্ট অন্তত ৩টি করে গুজব প্রকাশ করেছে। এছাড়া, রিপাবলিক, ইন্ডিয়া টুডে, এবিপি আনন্দ এবং আজতক অন্তত ২টি করে গুজব প্রচার করেছে। বাকি ৪১টি গণমাধ্যম অন্তত একটি করে গুজব প্রচার করেছে।
শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর তার নামে ভুয়া খোলা চিঠি : শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর তার নামে খোলা চিঠি দাবি করে তা প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম। তবে রিউমর স্ক্যানারের তদন্তে পাওয়া যায় শেখ হাসিনা এমন চিঠি দেননি।
নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে এক ব্যক্তির মানববন্ধনের ভিডিও ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এতে ওই ব্যক্তিকে হিন্দু দাবি করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ব্যক্তি আসলে মুসলিম এবং তার নাম বাবুল হাওলাদার। যিনি ২০১৩ সালে নিখোঁজ হওয়া ছেলের সন্ধানে মানববন্ধন করেছিলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইসিইউতে ভর্তি : প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ভর্তি বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রচার করা হয়। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছবিটি ড. ইউনূসের নয় এবং তিনি সুস্থ আছেন।
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া : ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয় বাংলাদেশে কিছু নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানার এই দাবির কোনো সত্যতা পায়নি।
ট্রাম্পের বিজয়ের পর ড. ইউনূসের ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়ার গুজব : ভারতের কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয় ট্রাম্পের বিজয়ের পর ড. ইউনূস ফ্রান্সে পালিয়ে গেছেন। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, পালানোর প্রমাণ হিসাবে একটি বিমানের যে ছবি প্রচারিত হয়, সেটি আসলে ৮ আগস্টের। যখন ড. ইউনূস ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশে ফিরছিলেন।
পাকিস্তানি জাহাজে অস্ত্র আনার দাবি : পাকিস্তানের করাচি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে অস্ত্র নিয়ে আসার দাবি করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, এটি একটি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং এর মাধ্যমে শিল্পের কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য আনা হয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবীকে হত্যা : চট্টগ্রামে হত্যার শিকার আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবী বলে ভারতীয় গণমাধ্যম দাবি করে। রিউমর স্ক্যানার জানায়, চিন্ময়ের আইনজীবী ছিলেন শুভাশীষ শর্মা।
ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ হওয়া : ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম দাবি করে যে, বাংলাদেশে ভারতীয় স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব চ্যানেল এখনো সচল রয়েছে।
বিমানবাহিনীর নতুন বিমানঘাঁটি নির্মাণ : ভারতের কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী চীনের সাহায্যে লালমনিরহাটে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। লালমনিরহাটের বিমানবন্দর দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
হিন্দু মন্দিরে হামলা এবং প্রতিমা ভাঙচুর : বাংলাদেশে মুসলিমরা হিন্দু ও তাদের মন্দিরে হামলা করে প্রতিমা ভাঙচুর করছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, এটি আসলে ভারতের পূর্ব বর্ধমান জেলার খন্ডঘোষ সুলতানপুর গ্রামে প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য।
বাসে হামলা ও ভারতবিরোধী স্লোগান : ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে শ্যামলী পরিবহণের বাসে হামলা করা হয়েছে এবং ভারতীয় যাত্রীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দাবির কোনো সত্যতা নেই এবং দুর্ঘটনাটি মূলত ওভারটেকিংয়ের কারণে ঘটেছিল।