
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:০৭ পিএম

সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারে শুক্রবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে আগেই। ক্ষণে ক্ষণে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পের ফলে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। জানা গেছে, দেশটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজধানী নেপিদোতে। ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটলেও মিয়ানমারে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা নিরাপদে আছেন বলে আশ্বস্ত করেছে নেপিদোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। এ ভূমিকম্পে থাইল্যান্ডেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল নেপিদো থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে। এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশ, চীন ও ভিয়েতনামেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির যে পরিমাণ, তাতে মানুষেরও দায় রয়েছে। স্থাপত্য নির্মাণে ভূমিকম্প প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া, আগাম সচেতনতার অভাব ইত্যাদি কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। মিয়ানমারের জান্তা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এ ডাকে সাড়া দেওয়া।
প্রতিবেশী মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্প আমাদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। এমনিতেই বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল বলে বিজ্ঞানীরা বহু আগেই সাবধান করে দিয়েছেন। তারা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম টেকটোনিক সক্রিয় অঞ্চল-ভারতীয়, ইউরেশিয়ান ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। সাগাইং ফল্ট ইন্দো-বার্মা সাবডাকশন জোনের অংশেও রয়েছে বাংলাদেশ। এ কারণে রাজধানী ঢাকাই শুধু নয়, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ বহু এলাকাকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। পরিতাপের বিষয়, প্রকৃতি বারবার সতর্ক করলেও ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এখনো আমরা উদাসীন। মাত্র একটি ভবন ধসে কিংবা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতায় যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে বড় একটি ভূমিকম্প আঘাত হানলে জনগণকে কী ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে, তা সহজেই অনুমেয়। দেরি যা হওয়ার হয়ে গেছে, ভূমিকম্পকে অবশ্যম্ভাবী দুর্যোগ বিবেচনায় এখন থেকেই সবার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে কীভাবে ভূমিকম্প সহনীয় করা যায়, সে পদক্ষেপও নিতে হবে নিরাপত্তার স্বার্থে। ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখতে এখন থেকেই সব পক্ষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।