
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:২৯ পিএম

সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য ঘুরমুখো মানুষের যাত্রা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে কর্তৃপক্ষ বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।
অতীতে লক্ষ করা গেছে, ঈদযাত্রায় যানজটের কারণে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় মহাসড়কে আটকে থাকতে হয়েছে। এবার যেন তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, কর্তৃপক্ষ সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবে, এটাই প্রত্যাশা। জানা যায়, এখন পর্যন্ত সড়ক, নৌ ও রেলপথে ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরছেন মানুষ। দুর্ভোগ বাড়তে পারে এমন শঙ্কায় বহু মানুষ আগেভাগেই রাজধানী ছেড়েছেন।
প্রতিবছর ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নানা অব্যবস্থাপনার কারণেও এমনটি ঘটে। কাজেই সড়ক ব্যবস্থাপনার ত্রুটিগুলো দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ইতোমধ্যে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে। কোনো কোনো মহাসড়কের কিছু পয়েন্টে যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ করা গেছে।
অতীতে সড়ক ও নৌপথে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বারবার। এবার ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো পরিবহণ কোম্পানি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এক সংবাদ সম্মেলনে। ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা। তবে কেবল এ ধরনের ঘোষণা প্রদানই যথেষ্ট নয়; তা বাস্তবায়নের জন্য নিতে হবে যথাযথ পদক্ষেপ।
লক্ষ করা গেছে, ঈদের আগে-পরে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে যেসব কর্তৃপক্ষ কাজ করে থাকে, ঈদের আগে তারা তৎপর হলেও ঈদের পরে তাদের তৎপরতায় কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ করা যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। অনেক সময় যাত্রীরাও চালককে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে উদ্বুদ্ধ করে। আবার পরিবহণ মালিকের চাপের কারণেও চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। এসব ক্ষেত্রে পরিবহণ মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার ঈদযাত্রায় ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা যাবে না। অতীতে দেখা গেছে, ঈদের সময় কোনো কোনো স্টেশনে ট্রেন প্রবেশ করামাত্র বহু মানুষ ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েছে। অনেক যাত্রীকে ট্রেনের ইঞ্জিন ও দুই বগির সংযোগস্থলে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতি রোধে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। বিনা টিকিটের যাত্রী ঠেকাতেও নিতে হবে ব্যবস্থা। বস্তুত যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা করা দরকার, সবই করতে হবে।
ঈদের সময় অজ্ঞান পার্টি, গামছা পার্টি-এসব চক্রের তৎপরতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা খাবারের মধ্যে নেশাজাতীয় বা চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে মানুষকে অজ্ঞান করে অর্থসহ সবকিছু হাতিয়ে নেয়। এসব চক্রের তৎপরতা বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। সড়ক ও নৌ কোনো পথেই যাতে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এবং প্রবেশমুখে অস্বাভাবিক যানজটের কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে অতিরিক্ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এসব সমস্যা যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।