
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:০৭ পিএম

সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারের কাছ থেকে সনদ নিয়েছেন, এমন ১২ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সনদ বাতিলের আবেদন করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। এদিকে সনদধারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্তে অভিযোগের পাহাড় জমেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে।
জানা গেছে, তিন মাসে ২০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। ভুয়া সনদে যারা চাকরি নিয়েছেন, তাদের নামেও অভিযোগ আসছে। রণাঙ্গনের সম্মুখসারির যোদ্ধারা অভিযোগ জানিয়ে এসব আবেদন করেছেন। জেলা-উপজেলা থেকে প্রতিদিনই প্রচুর পরিমাণে আবেদন আসছে। এগুলো যাচাই-বাছাইয়ে হিমশিম খাচ্ছে মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।
এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না, যদি দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক তালিকা থাকত। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও আমরা একটি নির্ভুল মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরি করতে পারিনি, এটি দুর্ভাগ্যজনক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ভুয়া সনদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাকে বিতর্কিত করে গেছেন।
প্রাথমিকভাবে সারা দেশে ৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে বলে ধারণা করছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে জামুকার মতে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা লক্ষাধিক। বস্তুত এদের সনদ দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। এছাড়া অনিয়ম-দুর্নীতি করেও অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেওয়া হয়েছে। এটা মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অসম্মান।
আশার কথা, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বিগত সরকার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও তালিকা যাচাই-বাছাইয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও যারা সনদ নিয়েছেন, তিনি তাদের তা ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এতে সাড়া দিয়ে কেউ কেউ সনদ বাতিলের আবেদন করে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন। আর যারা সাড়া দেননি বা দেবেন না, সেসব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকেও সঠিকভাবে শনাক্ত করা প্রয়োজন। আমরা আশা করছি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত উদ্যোগ সফল হবে।
এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, তালিকা থেকে কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যেন বাদ না পড়েন বা হয়রানির শিকার না হন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগের আবেদনগুলো নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে। সেই সঙ্গে আমরা এটিও বলতে চাই, যেসব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা অর্থের বিনিময়ে সনদ নিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এর পেছনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিত। ভুয়াদের বাদ দিয়ে অচিরেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।