
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:০৭ পিএম
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ : অপশক্তিকে রুখতে ঐক্যের বিকল্প নেই

সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি আরও জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করা সরকারের লক্ষ্য। এজন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচনের জন্য তৈরি হবে বলেও আশাবাদী তিনি। চীন সফরের আগে স্বাধীনতা দিবস ও ঈদ উপলক্ষ্যে দেওয়া ভাষণে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজব সম্পর্কেও দেশবাসীকে সতর্ক করেন তিনি। বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের এক মহোৎসব চলছে। যতই নির্বাচন কাছে আসবে, এর রূপ আরও ভয়ংকর হতে থাকবে। গুজব মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহযোগিতা চাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম পর্ব সফলভাবে সমাপ্তির মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। এই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেছেন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভেঙে দুটি বিভাগ করা, স্টারলিংকের সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তির উদ্যোগের মতো বিষয়গুলো যেমন তার ভাষণে উঠে এসেছে, তেমনই জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যাসংক্রান্ত জাতিসংঘের প্রতিবেদন নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে করা সুপারিশকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে গণহত্যায় জড়িতদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে জুলাই অভ্যুত্থানের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরাও মনে করি, বিগত ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদ এড়াতে হলে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। এ অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করতে তারা চক্রান্ত করবে; কিন্তু তাদের এসব অভিনব কৌশল বুঝতে হলে জাতিকে সদাসতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, সচেতনতা এবং সামগ্রিক ঐক্যই পারবে পলাতক অপশক্তির সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। বিগত সরকারের লুটপাটের মহোৎসবের ফলে খাদের কিনারে যাওয়া অর্থনীতিকে ফের চাঙা করতে নিরলস কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের পথেও সরকার এগিয়ে চলেছে। এই পথ কণ্টকাকীর্ণ হলে আমরা অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাব। সত্যিকার গণতন্ত্রের যে স্বপ্ন জাতি দেখছে, তা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।