
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৫৪ পিএম

সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত
বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ায় যোগদানের লক্ষ্যে বিশেষ সফরে আজ চীন যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মূলত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণেই তার এ সফর। ড. ইউনূসের এ সফরকে বিশ্লেষকরা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, নতুন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে চীনের আলোচনা আশপাশের দেশগুলোর সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলে, সে কৌতূহলও তৈরি করেছে। বাংলাদেশের জনগণ তো বটেই; যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো দেশগুলোও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হতে যাওয়া ড. ইউনূসের বৈঠকের প্রতি বিশেষ নজর রাখছে। তার ওপর এক সপ্তাহ পরই অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ব্যাংককে দেখা হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ফলে ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত নানা কারণে চীনে হতে যাওয়া এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
উল্লেখ্য, এ সফরকে প্রধান উপদেষ্টার প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর ঘোষণা করা হয়েছে। কাজেই বোয়াও ফোরামে অংশগ্রহণ ছাড়াও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া, যাকে দাভস হিসাবেও অভিহিত করা হয়, এ ফোরামে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতা ছাড়াও বিশ্বের জায়ান্ট ফার্মগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা যোগ দিয়ে থাকেন। এবারের সম্মেলনেও এর ব্যতিক্রম হবে না। জানা গেছে, এ ফোরামের সাইডলাইনে বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। এসব বৈঠক থেকে প্রধান উপদেষ্টা দেশের জন্য কল্যাণকর অর্জন নিয়ে আসবেন, এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ছাড়াও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ধরন, শুল্কমুক্ত সুবিধা, নতুন বিনিয়োগ, চীনের প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনেও প্রধান উপদেষ্টা নিশ্চয়ই চীনের ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা চাইবেন। বৈঠকে বিষয়টি এ কারণেই গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপিত হওয়া প্রয়োজন যে, মিয়ানমার যদি কোনো দেশের আহ্বান ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে, সেটি চীন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে আমাদের বড় অর্থনৈতিক সহযোগী দেশ হিসাবে চীনকে আমরা পেয়েছি। আগামী দিনেও দেশের নানা অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের অর্থায়ন আমরা প্রত্যাশা করি। সে বিষয়েও ড. ইউনূস ইতিবাচক বার্তা নিয়ে আসবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস। প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর সফল ও ফলপ্রসূ হবে, এটাই প্রত্যাশা।