খেলাপি ঋণের বোঝা
ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করুন

সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বস্তুত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঋণের নামে ব্যাংক লুট ও লুটের টাকা পাচারের ফলে সেগুলো এখন খেলাপি হচ্ছে।
একইসঙ্গে বেড়ে চলেছে আদায় অযোগ্য কু-ঋণ। জামানত না থাকায় কিছু ঋণ সরাসরি কু-ঋণে পরিণত হচ্ছে। বুধবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকায়; যা বিতরণকৃত ঋণের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ।
এক বছরের হিসাবে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি। প্রকৃত হিসাবে খেলাপি ঋণের অঙ্কটি আরও বড়। গত সরকারের আমলের লুটপাটের তথ্য যত বের হচ্ছে, খেলাপি ঋণের অঙ্কটি তত বড় হচ্ছে।
রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের লুটপাটের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ছে বলেই এখন তা বাড়ছে। এসব লুটেরা আগেও ঋণখেলাপি ছিল। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় ব্যাংকগুলো তাদের ঋণখেলাপি দেখাতে পারত না। কৌশলে আড়াল করে রাখা হতো। ৫ আগস্টের পরে এক এক করে তথ্য বেরিয়ে আসছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর থেকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এখন যেসব ঋণ খেলাপি হচ্ছে, সেগুলোর সবই গত সরকারের আমলে বিতরণ করা। গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা।
বৈশ্বিকভাবে বিভিন্ন ব্যাংক দুর্বল ব্যাংকের এলসি গ্রহণ করতে চায় না। তখন তৃতীয় কোনো ব্যাংককে গ্যারান্টি দিতে হয়। এতে ওই ব্যাংককে গ্যারান্টি ফি হিসাবে বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এতে আমদানি খরচ বেড়ে যায়। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে ঝুঁকির মাত্রা বাড়ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কর্তৃপক্ষ বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ায় ব্যাংক খাত থেকে লুটপাট ও অর্থ পাচার বন্ধ হয়েছে। তবে যেহেতু খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতে দুরারোগ্য ব্যাধির রূপ নিয়েছে, সেহেতু এ খাতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে যত দ্রুত সম্ভব যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ের পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার পদক্ষেপও নিতে হবে।