Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

চার বাসে ডাকাতি : অপরাধ দমনে কঠোরতা কাম্য

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চার বাসে ডাকাতি : অপরাধ দমনে কঠোরতা কাম্য

প্রতীকী ছবি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে দেশবাসীর উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না, জনমনে এমন প্রশ্নও জোরালো হচ্ছে। শুধু রাতে নয়, দিনদুপুরেও ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ছিনতাইকারীরা ছিনতাই করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না; শারীরিকভাবে আঘাত করছে মানুষকে। মঙ্গলবার ভোরের দিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শিক্ষা সফরগামী চার স্কুল বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতরা লুট করার পাশাপাশি তিন ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শিক্ষা সফরের জন্য চারটি বাস নিয়ে নাটোরে উদ্দেশে রওয়ানা দেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বাস চারটি ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের লক্ষণের বাধা এলাকায় পৌঁছালে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে একদল ডাকাত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাসে থাকা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয়। ক্ষতিগ্রস্তরা একপর্যায়ে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ততক্ষণে যাত্রীদের মালামাল লুট করা শেষ। এ ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে, এটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি উত্তরায় প্রকাশ্যে রিকশা আরোহীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কোপানোর ঘটনার রেশ না কাটতেই যাত্রীবাহী বাসে প্রকাশ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হামলার ঘটনায় বোঝা যায় সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ-কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। অপরাধীরা যেভাবে দাপটের সঙ্গে অস্ত্র ব্যবহার করছে, তাতে নিরীহ নাগরিকদের নিরাপত্তা যে সংকটে, তা বলাই বাহুল্য।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গত কয়েকদিন ধরে ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। ছিনতাই রোধে ইতোমধ্যে মশাল মিছিল এবং বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় ছাত্র-জনতা। এলাকায় এমন অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশের ‘নীরব’ ভূমিকার প্রতিকারে মোহাম্মদপুর থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে দুই বাসিন্দাকে অপহরণের পর ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে দুজনের পরিবারের সদস্যদের কাছে মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কেন এমন অবনতি হলো, তা খুঁজে বের করতে হবে। সব ধরনের অপরাধ ও নৈরাজ্যের অবসানে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম