রথযাত্রায় মর্মান্তিক মৃত্যু: বড় সমাগমে সতর্কতা জরুরি

সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

রোববার বগুড়ার সেউজগাড়ী আমতলা এলাকায় এক মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। এদিন বিকাল ৫টার দিকে সেউজগাড়ী এলাকার ইসকন মন্দির থেকে প্রতিবছরের মতো রথযাত্রা বের করা হয়েছিল। বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশ নিয়েছিলেন এ যাত্রায়। অনেকে আবার গাড়ির সঙ্গে যুক্ত রশি ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন। রথযাত্রা সেউজগাড়ী আমতলায় পৌঁছলে স্টিলের তৈরি রথের চূড়া রাস্তার পাশের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসে এবং তাতে আগুন ধরে যায়।
এ অঘটনে বিদ্যুতায়িত হন অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেক) এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শজিমেক হাসপাতালে চারজন এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। সংকটাপন্ন দু’জনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, রাস্তার উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার যাওয়ায় প্রশাসন আগেই রথের চূড়ার উচ্চতা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। প্রশাসনের এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, সড়কের যেসব জায়গায় বৈদ্যুতিক তারের উচ্চতা যত, সেসব জায়গায় সে অনুযায়ী রথের চূড়া ওঠানামা করবে। কিন্তু এ আশ্বাস বাস্তবে তারা রক্ষা করেননি। ফলে বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে লেগে গেছে রথের চূড়া। বগুড়ার জেলা প্রশাসক বলেছেন, এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী রথযাত্রার আয়োজকরাই। তাদের ভুলেই প্রাণ গেছে পাঁচজনের। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। বিদ্যুৎ বিভাগ ও পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আমাদের ধারণা, জেলা প্রশাসকের বক্তব্যই সত্য। কারণ বৈদ্যুতিক তার তো আর হেলে পড়েনি। রথের চূড়ার উচ্চতা যদি তারের উচ্চতার সঙ্গে সংগতি রেখে ঠিক করা হতো, তাহলে এমন দুর্ঘটনা ঘটার কথা নয়। আমরা লক্ষ করে আসছি, যে কোনো ধর্মীয়, বিশেষত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মাচারকে কেন্দ্র করে যখন বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়, তখন প্রায়ই সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশী ভারতে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর অনেক উদাহরণ রয়েছে।
আমাদের কথা হলো, যেসব ধর্মীয় আচারে লোকের আগমন বেশি হয়, সেসব আচরণ পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কখন কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, তা মাথায় রাখতে হবে। বগুড়ার দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া নারী-পুরুষদের জন্য শোক প্রকাশ করা ছাড়াও আমরা তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি জানাই সমবেদনা।