
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:২৬ পিএম

রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
আরও পড়ুন
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নতুন সেচ নীতিমালায় এবার রাজশাহী অঞ্চলে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমি বোরো আবাদের আওতা থেকে বাদ পড়েছে। বিএমডিএ-এর নীতিমালার আওতায় সেচ সুবিধা সংকুচিত হওয়ায় চাষিরা প্রস্তুতি নিয়েও বোরো আবাদ করতে পারেননি। চাষিরা বলছেন, এবার রাজশাহী অঞ্চলের জেলাগুলোয় বোরো ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে। চলতি বোরো মৌসুম থেকে নতুন নীতিমালা কার্যকর করায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের এবার কৃষকের অর্ধেক জমিতে বোরো আবাদ এবং বাকি অর্ধেকে অন্য ফসল চাষের সুপারিশ করে।
সূত্র জানায়, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের আওতাভুক্ত। এ অঞ্চলে ২০২৩-২৪ মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলায় বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমি। তবে গত মৌসুমে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছিল। এ পরিমাণ জমিতে ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪৩ মেট্রিক টন বোরোর ফলন হয়। এদিকে চলতি ২০২৪-২৫ মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় অর্ধেক জমিতে বোরোর আবাদ কমেছে। চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ছিল ৩ লাখ ৭৬ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে। সেচ সুবিধা সংকোচনে এবার আবাদ হয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমি। ফলে গত মৌসুমের তুলনায় এবার বোরোর জমি কমেছে ১০ হাজার ২০০ হেক্টর। জেলাওয়ারি রাজশাহীতে কমেছে ১ হাজার ৯০৫ হেক্টর। নওগাঁয় ৫৪০ হেক্টর, নাটোরে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ হাজার ২০৫ হেক্টর বোরোর জমি কমেছে। এতে চলতি মৌসুমে ৫০ হাজার মেট্রিক টন বোরোর ফলন কম হবে।
অক্টোবরে বিএমডিএ রাজশাহী অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানি সংকটাপন্ন আট উপজেলায় সেচ ও শস্যবিন্যাস নীতিমালা ঘোষণা করে। তথ্যমতে, ভূগর্ভস্থ পানি সংকটে পড়ায় রাজশাহী অঞ্চলের আট উপজেলায় ৩ হাজার ৫৮৮টি সচল গভীর নলকূপের মধ্যে ১ হাজার ৯৬০টি নলকূপে ঠিকমতো পানি উঠছে না। ভূগর্ভস্থ পানি স্তর সংকটে এবার প্রতিটি নলকূপের আওতাধীন ১০০ হেক্টরের স্থলে মাত্র ৪০ হেক্টর করে জমি বোরো আবাদের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, বিএমডিএ-এর নতুন সেচ নীতিমালা অনুযায়ী, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্থিতিশীল রাখতে বছরে একটি গভীর নলকূপ ১ হাজার ৯৬০ ঘণ্টা চালানো হবে। এর মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মে চলতি বোরো মৌসুমে একটি গভীর নলকূপ ৯৮০ ঘণ্টা চলবে। একইভাবে আগামী দিনে এসব ঝুঁকিপূর্ণ নলকূপের আওতাধীন জমিতে বোরো ধান চাষ অর্ধেক থেকে একসময় তা শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। ফলে আগামী দিনে বোরো আবাদ আরও কমবে।
জেলার গোদাগাড়ীর রিশিকুল এলাকার গভীর নলকূপ অপারেটর শাজাহান সেখ বলেন, আমার গভীর নলকূপের এলাকায় বোরো চাষযোগ্য জমি থাকলেও এবার মাত্র ৫ ভাগের একভাগ জমিতে সেচ সুবিধা পেয়েছি। বিএমডিএ অফিস থেকেও এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেকেই এবার বোরো ধান চাষ করতে পারেননি। আমার মতো অনেক কৃষকই এবার বোরোর বীজতলা করে ধান রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু সেচ সুবিধা না পাওয়ায় তারা বোরো আবাদ করতে পারেননি।
রাজশাহীর সরমংলা গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, বোরো ধান চাষ করার জন্য দুই মাস আগে বীজতলা প্রস্তুত করেছিলাম। কিন্তু সেচ না পাওয়ায় এবার বারো চাষ করতে পারিনি। চারা রোপণের ১৫ দিন আগে আমাদের বলা হয়, ১০ বিঘা জমির মাত্র তিন বিঘায় বোরো করতে পারব। ফলে আমাদের অনেক জমি এবার অনাবাদি থেকে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এবার আবাদের জমি কমে যাওয়ায় বোরোর উৎপাদন কমলেও অন্য ফসলের উৎপাদন বাড়বে। কম সেচনির্ভর শস্য, বিশেষ করে সরিষা, পেঁয়াজ, আলুসহ বিভিন্ন দানাদার ফসলের উৎপাদন বাড়বে।
রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে এবার বোরো আবাদ কমেছে। ফলে স্বাভাবিক কারণে বোরোর উৎপাদনও কিছুটা কম হবে। আশা করছি, বোরোর অনাবাদি জমিতে আসন্ন আউশ মৌসুমে ধান চাষ হবে।