
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১১:০১ পিএম

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশৃঙ্খলার কারণে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঈদের ছুটির মধ্যে পরপর তিন দিনে বড় ধরনের তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়কে ১৫ জন নিহতসহ ২৬ জন আহত হয়েছেন। একই স্থানে পরপর তিনটি দুর্ঘটনা কেন ঘটল-দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন। প্রাথমিক কারণ হিসাবে তারা বলেছেন, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কটি সরু এবং বেশ কিছু বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এছাড়া ট্রাকে করে লবণ পরিবহণ করায় ওই সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে থাকে। এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। ৩১ মার্চ ঈদের দিন ওই সড়কে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীবাহী বাস ও মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মারা যান ৫ তরুণ এবং আহত হন ৯ জন। পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে পর্যটকবাহী দুটি মাইক্রো বাস উলটে আহত হন ৯ জন এবং সবশেষ গতকাল বুধবার মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন ১০ জন এবং ৫ জন আহত হন।
এদিকে ওই সড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনার বিষয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানান, সরকার কক্সবাজার এবং আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করলেও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখনো দুই লেনের রয়ে গেছে। ওই সড়কে দ্রুতগতির ট্যুরিস্ট বাস এবং অন্যান্য প্রাইভেট পরিবহণ চলাচল করে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের চলাচলের জন্য ইজিবাইক, অটোরিকশা এবং লবণবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এরপরও ওই সড়কের প্রায় ১১টি পয়েন্ট খুবই সরু সড়ক বা বটল নেক রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে ওই সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে অভিমত তাদের।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুল হক যুগান্তরকে বলেন, কক্সবাজারের আশপাশে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে সরকার। অথচ কক্সবাজার-চট্টগ্রামের একমাত্র সড়কটি এখনো দুই লেনে রয়েছে। অনেক বলার পর সরকার সেখানে চারলেন করার উদ্যোগ নিয়েছে। তাতেও কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি বলেন, এজন্য ওই মহাসড়কের চারলেনের ওপর ‘চারলেনের এলিভেটেড’ করা দরকার। তাহলে নিচের সড়কটি স্থানীয়রা সার্ভিস লেন হিসাবে ব্যবহার করবে এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ট্যুরিস্ট এবং বাণিজ্যিক ব্যবহার হবে।
অধ্যাপক ড. শামসুল হক আরও জানান, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্যুরিস্ট বাস এবং প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চলাচল করে। একই সড়কে স্থানীয় যানবাহন এবং লবণবাহী ট্রাক চলাচল করে। দুই লেনের সড়কের প্রায় ১১ জায়গায় বটল নেক (সরু সড়ক) রয়েছে। যেখানে প্রচুর যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে। এসব পয়েন্ট পার হওয়ার পর সঙ্গত কারণে চালকরা দ্রুতগতিতে গাড়ি চালায়। আর ওই সড়কটি সব সময় ভিজা থাকে। এটা বাজার এবং লবণবাহী ট্রাক বা অন্যান্য কারণেও হয়ে থাকতে পারে। এসব বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের আন্তরিক হতে হবে। পাশাপাশি টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব সমস্যার সমাধানেও কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়েকর চুনতি জাঙ্গালিয়া পয়েন্টে বড় বাঁক রয়েছে। এক অংশ থেকে অপরাংশের কিছুই দেখা যায় না। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসব জানা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব হচ্ছে গাছপালা বা দেখতে বাধা সৃষ্টিকারী উপাদানগুলো কেটে ফেলা। কিন্তু সেদিকে তাদের কোনো খেয়াল থাকে না। এখন দুর্ঘটনা হলো, বহু লোকের প্রাণ গেল। দায়িত্বপ্রাপ্তরা গাছ কাটছেন এবং সড়কে মার্কিং করছেন। বারবার কেন মানুষকে জীবন দিয়ে সড়ক সংস্কার ও নিরাপদ করতে হবে? তিনি বলেন, এসব সড়কের নিরাপত্তা অডিট করার নিয়ম রয়েছে। এ ধরনের কিছু কাজ হলেও সেগুলো কাগুজে হয়ে থাকছে।
সড়ক পরিবহণ ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান যুগান্তরকে বলেন, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া পয়েন্টে বাঁকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ওই সড়কে কিছু বিশৃঙ্খলা রয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কের বাঁকের বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সেখানে মার্কিং উঠে গিয়েছিল; নতুন করে সেখানে মার্কিংও করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দুই লেনের সড়ক চারলেনে উন্নীত করার উদ্যোগ রয়েছে। এর বাইরে আরও যা যা করা দরকার সেসব উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সেসব তো আর এখনই বা রাতারাতি করে ফেলা সম্ভব হবে না। এজন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেসব বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে।