
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:০৩ পিএম

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ও-মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানের তাৎপর্য ফুটে ওঠে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোয়। এবার ঈদে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল এসব বিনোদনকেন্দ্র। জাঁকজমকপূর্ণ আনন্দ মিছিলের মাধ্যমে ঈদের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া রাজধানীবাসীর ঈদ আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক। সেখানে ফিউচার ওয়ার্ল্ড ও প্লেয়ার্স ক্লাব, বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ব্লকবাস্টার সিনেমাস ও লাইভ কনসার্টে আগত দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন চমৎকার অভিজ্ঞতা।
এদিকে রাজধানীতে ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যক্তিগত পরিবহণে চড়ে বেড়ানো, ওয়াটার ট্যাক্সিতে ভ্রমণসহ নানা ধরনের বিনোদনের মাধ্যমে ঈদের ছুটি কাটান নগরবাসী। একটু গরমের কারণে মনোরম বাতাস ও গাছের ছায়ায় ঘুরে বেড়াতে বেছে নেন অনেকে হাতিরঝিলকে। আর বন্য পশুপাখির সঙ্গে পরিচয় ও বিনোদনের জন্য শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা ছুটে গেছেন জাতীয় চিড়িয়াখানায়।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ উপলক্ষ্যে টানা ছুটিতে জনবহুল ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি হয়ে পড়ে ফাঁকা। তবে আদি ঢাকাবাসী এবং যারা স্থায়ীভাবে বসাবাস করছেন কিংবা কোনো কারণে গ্রামে যাননি, তারাই ভিড় করেন শহরের বিনোদনকেন্দ্রগুলোয়। এছাড়া রাজধানীর আশপাশে গড়ে ওঠা সুইমিংপুলসহ রিসোর্টগুলোয় প্রচুর লোকসমাগম ছিল। মিরপুর বেড়িবাঁধের বিনোদনকেন্দ্র ‘জাবা রেইসিং’র কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন যুগান্তরকে জানান, ঈদে আমাদের বিনোদনকেন্দ্র জমে উঠেছে। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মানুষ ভিড় করছেন।
যমুনা ফিউচার পার্ক : রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন যমুনা ফিউচার পার্কে। মা-বাবার সঙ্গে আসে পরিবারের ছোট্ট সদস্যরাও। তাদের কোলাহলে শপিংমলজুড়ে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। যমুনা ফিউচার পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদ ঘিরে যমুনা ফিউচার পার্কের ইস্ট কোর্ট লেভেল ৫-এ মঙ্গলবার ও বুধবার দুদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে। ফিউচার ওয়ার্ল্ডে শিশুদের প্রিয় ম্যাজিক শো, ভি আর গেম ছাড়াও লেভেল ৫-এ সবার জন্য ছিল লাইভ কনসার্টের আয়োজন। এছাড়া ফিউচার ওয়ার্ল্ড, প্লেয়ার্স ক্লাব, ব্লকবাস্টার সিনেমাসে টিকিট কিনলেই মিলেছে ফ্রি পিজ্জার কুপনসহ আরও অনেক উপহার। ফুডির সৌজন্যে মঙ্গলবার দর্শকদের উদ্দেশে ক্রিয়েট ডিজি ব্যান্ড লাইভ অনুষ্ঠান হয়েছে। ফিউচার ওয়ার্ল্ডের সৌজন্যে ভি আর এক্সিপেরিয়েন্স ম্যাজিশিয়ান পিসি সাহা ম্যাজিক শো উপস্থাপন করেছেন। ফুডির সৌজন্যে ব্যান্ডদল ত্রিভুজ, রানি ঊর্মি লাবনী, ডিজে ইমনের ছিল বিশেষ পরিবেশনা। এছাড়া এদিন যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল ৫-এ রেস্টুরেন্টগুলোয় মাছ দিয়ে নতুন স্বাদের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।
বুধবার যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা যায়, শপিংমলে প্রবেশ করছেন রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ। অনেকে প্রিয়জনের সঙ্গে সেলফি ও ছবি তুলছেন। মা-বাবা শিশুদের নিয়ে ছুটেছেন ফিউচার ওয়ার্ল্ডে। সুপার সুইং রাইড, বাম্পার কার, ড্রাংকার বক্সিংয়ের মতো রাইডগুলো বাচ্চাদের ঈদ আনন্দ বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। লেভেল ৫-এ ত্রিভুজের লাইভ কনসার্টে কথা হয় উত্তরার নাঈমের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ আনন্দ উদ্যাপন করতে যমুনা ফিউচার পার্কে এসেছি। বন্ধুদের নিয়ে সকাল থেকে শপিংমলের বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করেছি। দুপুরের খাবার শেষে ত্রিভুজের গান শুনেছি। চমৎকার একটি দিন কাটিয়েছে।
ফিউচার ওয়ার্ল্ডে কথা হয় তামান্নার সঙ্গে। স্বামী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে আসা তামান্না যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীতে শিশুদের বিনোদনকেন্দ্রের অনেক অভাব। যে কয়টা আছে, সেখানে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নেই। সেজন্য যমুনা ফিউচার পার্কের ফিউচার ওয়ার্ল্ডে সন্তানকে নিয়ে এসেছি। এখানে রাইডগুলোয় চড়ে আমার সন্তান অনেক খুশি। পাশাপাশি বিভিন্ন গেমে অংশ নিয়ে এখন কার রেসিং করছে। প্লেয়ার্স ক্লাবে আসা তানভির বলেন, ৮ বন্ধু মিলে এখানে খেলাধুলা করতে এসেছি। ঈদের দিন এবং এর পরের দিন বাসায় ছিলাম। তাই একটু ফ্রেশ হতে এখানে এসেছি।
হাতিরঝিল : ঈদ আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি ভ্রমণ। আশি টাকায় ওয়াটার ট্যাক্সিতে ঘুরেছেন অনেকে। হাতিরঝিলের পানিও পরিষ্কার, কোনো দুর্গন্ধ নেই। ওয়াটার ট্যাক্সিতে উঠে অনেক পরিবারকে আনন্দ করতে দেখা গেছে।
ধানমন্ডি লেকপাড় : ঈদ বিনোদনের জন্য ধানমন্ডি লেকপাড় হয়ে ওঠে অনেকের কাছে আকর্ষণীয়। বিকাল গড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনোদনপ্রেমিকদের ভিড়ে এখানকার সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। লেকপাড়ে সব বয়সি মানুষের ভিড় জমে। ধানমন্ডির জিগাতলা থেকে আবাহনী মাঠ পর্যন্ত রাস্তার পাশে বহু খাবার দোকান। লেকপাড় থেকে ঘুরেফিরে এসব দোকানে অনেকে ঢু মারছেন।
জাতীয় চিড়িয়াখানা : রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জাতীয় চিড়িয়াখানা। ঈদ এলেই চিড়িয়াখানা একটি বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নেয়। এ বছরও এখানে ব্যাপক মানুষের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য চিড়িয়াখানা বেড়ানোর অন্যতম স্থান। বাঘ, ভালুক, সিংহ আর জিরাফেই আগ্রহ বেশি শিশুদের। প্রাণিজগতের অজানাকে জানার আগ্রহ থেকে আসে সব বয়সি মানুষ।
শিশু পার্ক : শাহবাগের মূল শিশু পার্কটি না থাকায় শ্যামলীর শিশুমেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। এটি এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ৪০টির মতো রাইডের মধ্যে পরিবারের সবার চড়ার উপযোগী আছে ১২টি। বাকিগুলো শিশুদের। ঈদের প্রথম সাতদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকছে।
এছাড়া রবীন্দ্র সরোবরেও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। একই সঙ্গে টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যানসহ খোলামেলা সব জায়গায় ঘুরে বেড়িয়ে ঈদ উদ্যাপন করছেন রাজধানীবাসী। নভোথিয়েটার, বিজ্ঞান জাদুঘর, সামরিক জাদুঘর, বিমান জাদুঘরেও অনেক মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। নিত্যনতুন জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বরাবরই বেশি থাকে। তাই এসব জাদুঘরেও রয়েছে দর্শনার্থীদের সমাগম।