
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৩১ পিএম

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে বাস, ট্রেন ও বিমানে লাখো মানুষ ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে। বুধবার সকাল থেকেই কক্সবাজার শহরে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজ পর্যটকে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।
দুপুর ও বিকালে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে এতটাই ভিড় লক্ষ্য করা গেছে যে, স্বাভাবিক হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সমুদ্রের নীল জলরাশির শীতল স্পর্শ ও ঢেউয়ের গর্জন উপভোগ করতে দলে দলে পর্যটকরা সৈকতে নেমেছেন। কেউ সাগরের নোনা জলে গা ভিজিয়েছেন, কেউবা উন্মুক্ত সৈকতে ঘুরে বেড়িয়ে কাটিয়েছেন অবসর সময়।
সকালেই হোটেল-রিসোর্টে পৌঁছে পর্যটকরা স্বল্প বিশ্রাম নিয়েই ছুটে যান সমুদ্রসৈকতে। দুপুরের মধ্যেই কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হয় জনস্রোত। সৈকতের প্রতিটি অংশ পর্যটকের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে। রোদ-গরম উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগে মগ্ন ছিলেন। সবাই যেন শহরের ব্যস্ত জীবন ভুলে সমুদ্রের বিশালতার মাঝে হারিয়ে যেতে এসেছেন। এদিকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনের সুযোগ নিয়ে হোটেল-মোটেল ও যানবাহন ভাড়া এবং রেস্তোরাঁয় খাবারের মূল্য অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার মিরপুর থেকে আসা গার্মেন্ট ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, ‘ডিসেম্বরে যে হোটেলের কক্ষ ভাড়া ছিল সাড়ে ৩ হাজার টাকা, এবার অগ্রিম বুকিং দিয়েও সাড়ে ৬ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। রেস্তোরাঁয়ও খাবারের দাম অনেক বেশি। একই অভিযোগ করেছেন সিলেট থেকে আসা পর্যটক দম্পতি বাপ্পি চৌধুরী ও সারিকা হোসেন। তারা বলেন, ‘কক্সবাজারের প্রকৃতি মনোমুগ্ধকর হলেও অতিরিক্ত খরচ আমাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোটেল ভাড়া, খাবারের দাম সবকিছু দ্বিগুণ হয়ে গেছে। প্রশাসনের বিষয়টি নজরে আনা উচিত।
পর্যটকের চাপ বেশি থাকলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন-একথা স্বীকার করে কক্সবাজার আবাসিক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, আমরা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। হোটেল মালিকদের বলা হয়েছে, যেন প্রতিটি হোটেলে কক্ষ ভাড়ার তালিকা টাঙানো থাকে। পর্যটকরা তালিকা দেখে কক্ষ ভাড়া পরিশোধ করবেন। কেউ এই নির্দেশনা না মানলে প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড সদস্যরা। ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে কক্সবাজারে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ পর্যটক অবস্থান করছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যটনস্পটগুলোতে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের কাছ থেকে হোটেল ভাড়া ও খাবারের মূল্য অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে কিনা, তা তদারকিতে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।