
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১১:২৩ পিএম
হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার পর্যাপ্ত প্রমাণ মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

আরও পড়ুন
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। এতে গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসাবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বহু প্রমাণ ও উপাত্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। বুধবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তিনি।
তাজুল ইসলাম বলেন, কখনো সরাসরি, কখনো টেলিফোনেসহ নানা মাধ্যমে গুলির নির্দেশ দিয়ে তা আবার নিশ্চিতও করেন শেখ হাসিনা। হেলিকপ্টার থেকে গুলি করার স্পষ্ট নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। আইনের ভাষায় এ গণহত্যার সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি শেখ হাসিনার। তিনি আরও বলেন, খসড়া প্রতিবেদনটি এখন প্রসিকিউশনের হাতে রয়েছে। প্রতিবেদনে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গণহত্যা চালানোর অজস্র প্রমাণ উঠে এসেছে। শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, ১৭ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের চেষ্টা ও গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর আগে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা আশা করছি, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর আরও চার-পাঁচটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটা তদন্ত প্রতিবেদন থাকবে। সেটারও চূড়ান্ত পর্যায়ের ঘষাঁমাজা চলছে। আর ফরমাল (আনুষ্ঠানিক) চার্জ দাখিলের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিক বিচারের যাত্রা শুরু হবে। তিনি বলেন, আমাদের তদন্ত সংস্থা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। তাদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি তাদের জন্য নতুন, তারপরও তারা সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং সাধারণ মামলা এক নয়। কার গুলিতে কোন ব্যক্তি শহিদ হয়েছেন, এর প্রয়োজন নেই। এখানে দেখতে হবে রাষ্ট্রের প্রধান জায়গা থেকে নির্দেশ এসেছিল কিনা। একই পদ্ধতিতে সারা দেশে এ অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে কিনা। সংঘটিত অপরাধগুলো তার (শেখ হাসিনার) নির্দেশেই হয়েছে, এর প্রমাণ পেয়েছি। জাতিসংঘ পেয়েছে, সুতরাং কে বাদী, কে বিবাদী, তাকে চিনল কি চিনল না-এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কারা নির্দেশ দিয়েছিল, কারা এটা বাস্তবায়ন করেছে। সে ক্ষেত্রে আইনে প্রমাণ করতে খুব বেশি কঠিন কাজ হবে না।
প্রসিকিউশনের একটি সূত্র জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, উত্তরা, আশুলিয়া ও চানখাঁরপুলে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করে শতাধিক নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। এরই মধ্যে আশুলিয়ায় ৬ আন্দোলনকারীর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। যাত্রাবাড়ী ও রামপুরার ঘটনায় দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন শেষ পর্যায়ে। এছাড়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের দুটি আলাদা মামলা তদন্তাধীন। এপ্রিলের মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি (মিস কেস-২) মামলাসহ আরও দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হতে পারে।