
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩৭ এএম

বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বগুড়া সদর আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য (এমপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, হাটের ইজারা, টেন্ডার বাণিজ্য, পদ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ রয়েছে। ১০ বছরে তিনি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। তার অস্থাবর সম্পদ কয়েকগুণ বেড়েছে। শহরের শিববাটি এলাকায় প্রাসাদসম নয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কিনেছেন কোটি টাকার গাড়ি। স্ত্রী জোবাইদা আহসান জবাকেও কোটিপতি বানিয়েছেন। ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত ও অবজ্ঞা করায় তার গ্রেফতারে আÍীয়স্বজন ছাড়া অন্যদের মাঝে তেমন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি।
জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন রিপু। ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি উপ-নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি হন। তিনি ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। রিপু ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে যে সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছিলেন, তাতে নিজেকে কৃষি ও কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী উল্লেখ করেন। সেখানে আয়ের কথা ছিল না। তখন তার হাতে কোনো টাকা ছিল না। তিনি ৫০ হাজার টাকা নগদ ও কয়েকটি ব্যাংকে ৩১ লাখ টাকা জমা থাকার তথ্য দিয়েছিলেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সেই বছরে ১১ লাখ টাকার বেশি আয় করেন। শুধু ব্যাংকেই তার তিন কোটি ৮১ লাখ টাকা জমা আছে। সবমিলিয়ে তার পাঁচ কোটি ২৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। আর স্থাবর সম্পদ হিসাবে দুই কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া পৈতৃকসূত্রে ১৫ বিঘা কৃষিজমির পাশাপাশি ৮৫ শতাংশ অকৃষিজমি এবং নয় একর মৎস্য খামারের মালিকানার তথ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে ১১ বছর আগে রিপুর স্ত্রী জবার কোনো সম্পদ ছিল না। এখন তার ২০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্য অনুসারে এই স্বর্ণালংকারের মূল্য ২৫ লাখ টাকার বেশি।
হলফনামায় দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, রিপুর ৫৩ শতাংশ অকৃষি জমি আছে। এর বাইরে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ আয়তনের মৎস্য খামারের মালিকও তিনি। নয় বছর আগে তার কোনো বাসাবাড়ি ছিল না। এখন পৈতৃক সূত্রে পাওয়া চার শতাংশ জমির ওপর নয়তলা ভবনও হয়েছে। ঘনিষ্ঠজন ও দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের দাবি, রিপু ক্ষমতার অপব্যবহার, হাটের ইজারা, টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্য এবং পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে এসব সম্পদ ও সম্পত্তি গড়েছেন।
সম্পদ বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে রিপু সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ব্যাংকে জমার পরিমাণ তিন কোটি ৮১ লাখ টাকা নয়; সেটা ৩৮ লাখ টাকা হবে। কম্পিউটারে কম্পোজ করতে টাকার অঙ্কের হিসাবে ভুল হয়েছে। পণ্য মজুত এবং মৎস্য চাষ থেকে আমার কিছু টাকা আয় হয়। দুই কোটি ২০ লাখ টাকার আপার্টমেন্ট পৈতৃক সূত্রে পাওয়া।
বগুড়া জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুর্নীতি করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করলে অবশ্যই খতিয়ে দেখবে দুদক।