
প্রিন্ট: ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৪৩ পিএম

আবুল খায়ের, কুমিল্লা
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের তিনটি বাজারের যানজট দীর্ঘ বছরের। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ওই তিন বাজারে যানবাহনের জটলা বেঁধে থাকে। এতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কের কংশনগর, দেবিদ্বার ও কোম্পানীগঞ্জ বাজারে শুরু হয়েছে যানজটের নরক যন্ত্রণা। মহাসড়কের ওই তিনটি বাজার পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৫-৬ ঘণ্টা। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এদিকে, মহাসড়কের ময়নামতি থেকে কোম্পানীগঞ্জ পর্যন্ত যাতায়াত করতে ৪০ মিনিট সময় লাগার কথা থাকলেও অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট থেকে কোম্পানীগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। এটি জেলার ব্যস্ততম একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪-৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে।
কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও যানজট না থাকলে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট থেকে কোম্পানীগঞ্জ পৌঁছতে ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগে না। কিন্তু মহাসড়কে কংশনগর দেবিদ্বার ও কোম্পানীগঞ্জ বাজারে নিয়মিত যানজট থাকায় ২৫ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে ৫-৬ ঘণ্টা লেগে যায়। সম্প্রতি ঈদযাত্রায় এ মহাসড়কের ঘরমুখো মানুষ বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েছেন। মহাসড়কের ওই তিনটি বাজারে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে যানজটের নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে।
এদিকে, মহাসড়কের দেবিদ্বার এলাকায় একটি ট্রাফিক জোন থাকলেও তারা যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। তাছাড়া হাইওয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় সড়কটিতে অব্যবস্থাপনা চরম আকার ধারণ করেছে।
কুমিল্লা থেকে কোম্পানীগঞ্জগামী ফারহানা পরিবহণের চালক হুমায়ুন কবির বলেন, মহাসড়কের ময়নামতি থেকে কোম্পানীগঞ্জ পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। গত কয়েক মাস ধরে তাদের কার্যক্রম নেই বললেই চলে।
সুগন্ধা পরিবহণের চালক আবুল হোসেন বলেন, কংশনগর দেবিদ্বার ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকার যানজটে প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সড়কের ওপর হাটবাজার, সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড, যত্রতত্র থ্রি হুইলারের পার্কিং, মাটিবাহী ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক চলাচলসহ নানা অব্যবস্থাপনার জন্য সড়কটিতে যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
জিয়াউল হাসান নামে ফারজানা পরিবহণের এক যাত্রী বলেন, বছরের পর বছর আমরা এই তিনটি বাজারে দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। পুলিশ কিংবা প্রশাসন এই যানজট নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে বহুবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হচ্ছে না। অব্যবস্থাপনা প্রতিরোধে কেউ এগিয়ে আসছে না।
দেবিদ্বার ট্রাফিক জোনের দায়িত্বরত টিএসআই মো. সুমন জানান, যানবাহন চালকরা কোনো ধরনের সিগন্যাল মানছে না। রাস্তার ওপর হাটবাজার ও ফুটপাত। তার ওপরে থ্রি হুইলারগুলো অনিয়ন্ত্রিত। এতে মহাসড়কের তিনটি বাজারে তীব্র যানজট হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে কিছুটা যানজট রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা ওই মহাসড়কের যানজট নিরসনে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি বন্ধে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।