
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৪৫ পিএম
যশোরে আ.লীগের ২৩ ইউপি চেয়ারম্যান লাপাত্তা
অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রশাসক নাগরিক সেবায় ভোগান্তি

যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

যশোর সদর উপজেলার ইছালি ইউনিয়ন পরিষদে স্বামীর মৃত্যু ও ওয়ারিশ সনদ নিতে যান মুর্শিদা ইসলাম শিমু নামে এক নারী। কয়েক দিন ঘুরেও পাচ্ছিলেন না সনদ। তিনি বলেন, পরিষদের চেয়ারম্যান নেই। দায়িত্ব পালন করেন প্রশাসক। তিনিও নিয়মিত আসেন না। সচিবের দায়িত্বে যিনি আছেন, তিনিও একসঙ্গে দুই ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে স্বামীর মৃত্যু সনদ পাইনি। কবে পাব জানি না। শুধু মুর্শিদা ইসলাম শিমু নয়, তার মতো যশোর জেলার ২৩ ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। চেয়ারম্যান না থাকায় এসব ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিজ দপ্তরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সপ্তাহে মাত্র এক-দুইদিন পরিষদে বসছেন প্রশাসকরা। এতে নাগরিক সেবায় ভোগান্তি বেড়েছে।
জানা যায়, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর যশোর জেলার ২৩টি ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ ঘরানার চেয়ারম্যানদের কেউ কেউ পালিয়ে যান। আবার অনেকে জনরোষে পড়ে ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদেরকে সরিয়ে ওই পরিষদে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের উপজেলা সমবায় অফিসার, ইছালি ইউনিয়নে উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপশহর ইউনিয়নের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, ফতেপুর ইউনিয়নে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, কচুয়া ইউনিয়নে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।
শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, শার্শা সদর ইউনিয়নের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, লক্ষণপুর ইউনিয়নের উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা, গোগা ইউনিয়নের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, বাগআঁচড়া ইউনিয়নে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বেনাপোল ইউনিয়নের উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, উলাসী ইউনিয়নের উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপায় ইউনিয়নে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। কেশবপুর উপজেলায় মঙ্গলকোর্ট ইউনিয়নে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, পাঁজিয়া ইউনিয়নে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, সুফলাকাটি ইউনিয়নে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, গৌরিঘোনা ইউনিয়নে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, হাসানপুর ইউনিয়নের উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। ঝিকরগাছা উপজেলায় নির্বাসখোলা ইউনিয়নে উপজেলা আইসিটি অফিসার ও অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। নিজ দপ্তরের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে প্রশাসকের কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তারা।