
প্রিন্ট: ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:০৭ এএম

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুব মোর্শেদের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্রের ১৩’র ক ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্যের মানহানি এবং সাংবাদিক ইউনিয়নের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে সদস্যপদ স্থগিত করা হয়।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি ক্লাবের নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে মানহানি এবং সাংবাদিক ইউনিয়নের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মাহবুব মোর্শেদ সদস্যপদ বহাল রাখতে ক্লাবের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আচরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ক্লাবের একজন স্থায়ী সদস্য বাসসের এমডির বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগকারী ক্লাবের গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট বিধান মোতাবেক মাহবুব মোর্শেদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানান। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদ জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য দেশবরেণ্য সাংবাদিক, কবি এবং দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের নামে ফেসবুকে বানোয়াট তথ্য দিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। এটি ক্লাবের শৃঙ্খলার পরিপন্থি এবং ওই সদস্যের মানহানির অপচেষ্টা। আবেদনে বলা হয়, মাহবুব বাসসে কর্মরত ফ্যাসিবাদবিরোধী সাংবাদিকদের হয়রানি, ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতির পথ অবলম্বন এবং নিজেই নতুন করে দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছেন। এমনকি দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় একজন সিনিয়র সাংবাদিককে পদচ্যুত করে হয়রানি ও অপদস্থ করেছেন।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট দিয়ে যুগান্তর সম্পাদকের মানহানির চেষ্টার কারণে ঢাকার একটি আদালত ইতোমধ্যে মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে। তাছাড়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ২৮ মার্চ মাহাবুব মোর্শেদের আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বাসস থেকে তার অপসারণ দাবি করে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মাহবুব বাসসে সাংবাদিক ইউনিয়নের আইনসম্মত কর্মকাণ্ডে বাধাসৃষ্টি ছাড়াও সংস্থায় ফ্যাসিবাদবিরোধী সাংবাদিক হয়রানি, ফ্যাসিবাদের দোসরদের সুরক্ষা, হাসিনার আমলে অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারে অনীহা দেখাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি নিজেই দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছেন। দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় একাধিক সিনিয়র সাংবাদিককে পদচ্যুতি, হয়রানি ও অপদস্থ করেন। পরবর্তীতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বরাবরেও একই স্মারকলিপি পেশ করা হয়।