
প্রিন্ট: ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:০০ এএম

বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
আরও পড়ুন
বরিশালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৮ প্রভাবশালী নেতাকর্মীর সাংগঠনিক এবং প্রাথমিক পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে কেন্দ্র। বালুমহালের দরপত্র দখল করতে এক সেনা সদস্যকে অপহরণ করে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর করা চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আমাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পদ স্থগিত হওয়া ৮ নেতাকর্মী হলেন হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দেওয়ান মনির হোসেন, বরিশাল মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ রাঢ়ী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাবেক সহ-সভাপতি নূর হোসেন, হিজলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ইমরান খন্দকার, মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা বেগম, বিএনপি কর্মী মো. রুবেল, মো. বেলায়েত হোসেন ও মো. জাহিদ।
তাদের মধ্যে হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দেওয়ান মনির হোসেন, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমানে যুবদল কর্মী নূর হোসেন এবং হিজলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ইমরান খন্দকার সোমবার সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবদুল মতিন কাজীর দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। বর্তমানে এ তিনজন নেতাকর্মী কারাগারে আছেন। বরিশালের হিজলা উপজেলাসংলগ্ন মেঘনা নদীর ১৩ কোটি টাকা মূল্যমানের বালুমহাল ইজারার দরপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল সোমবার। ওইদিন দুপুর ১টার দিকে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে আসেন ভুক্তভোগী চাঁদপুরের উত্তর মতলব থানার আবদুল মতিন কাজী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাতিজা সেনা সদস্য মো. জাফরসহ সহযোগী বরিশাল নগরের বিমানবন্দর থানার গগনপাড়া এলাকার আবদুল বাছেদ। দরপত্র জমা দিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এলে বেশ কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরেন। এ সময় কেন দরপত্র জমা দিয়েছেন, তা জানতে চেয়ে অভিযুক্তরা মতিন, বাছেদ ও জাফরকে মারধর শুরু করেন। তখন দুজন দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারলেও সেনা সদস্য জাফরকে অপহরণ করে নিয়ে যান হামলাকারীরা। জাফরকে ধরে নিয়ে নগরীর নদীবন্দর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রাখা হয়। এ সময় জাফরের সঙ্গে থাকা সেনাবাহিনীর পরিচয়পত্রটি নিয়ে ভেঙে ফেলেন। জাফরকে রেখে অপহরণকারীরা বাইরে গেলে জাফর সেখান থেকে বের হন। এরপর আবদুল মতিন বিষয়টি বরিশাল সেনা ক্যাম্পে জানালে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে দেওয়ান মনির হোসেন, নূর হোসেন ও ইমরান খন্দকারকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় আবদুল মতিন কাজী বাদী হয়ে বিএনপির ১২ জনকে আসামি করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিএনপির তদন্ত কমিটি : বরিশালের বালুমহালের দরপত্র নিয়ে এক সেনা সদস্যকে অপহরণ করে মারধর ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মুহাম্মদ চৌধুরী আলালকে আহ্বায়ক করে বিএনপির পক্ষ থেকে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচদিনের মধ্যে তদন্ত করে একটি লিখিত প্রতিবেদন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।