
প্রিন্ট: ২৮ মার্চ ২০২৫, ০৩:০৪ পিএম

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পদ বাগিয়ে নেওয়া ও প্রভাব খাটিয়ে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মামলা দুটি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুদকের উপ-পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দুটি করেন। একটি মামলায় পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ২০২৩ সালে একটি বায়োডাটা বা সিভি দাখিল করেন। সেই সিভিতে তিনি তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শিক্ষকতা করার মিথ্যা দাবি করেন। সেই সঙ্গে বিএসএমএমইউতে শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি বা রিভিউ সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশ না নিয়েও নিজেকে সেই কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করে আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এসব মিথ্যা তথ্য যুক্ত করে আবেদন করায় তার সিভি সমৃদ্ধ হয়। ফলে আঞ্চলিক পরিচালক পদে তার নিয়োগের পথ সুগম হয়।
আরেকটি মামলায় সূচনা ফাউন্ডেশনের জন্য বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সদস্যভুক্ত ২০টি ব্যাংককে তাদের সিএসআর ফান্ড থেকে ৩৩ কোটি টাকা দিতে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান, এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের সহযোগিতায় পুতুল তার সূচনা ফাউন্ডেশনের জন্য উল্লেখিত ২০টি ব্যাংককে তাদের সিএসআর ফান্ড থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে ৩৩ কোটি টাকা দিতে বাধ্য করেছেন।
এই অর্থ কিভাবে এবং কোন খাতে খরচ করা হয়েছে, তা জানার জন্য অনুসন্ধানের অংশ হিসাবে সূচনা ফাউন্ডেশনে দুদক থেকে চিঠি পাঠানো হলেও কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। দুদকের এক অভিযানেও প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে এজাহারে বলা হয়। ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জমাকৃত অর্থ (সিএসআর ফান্ড) এভাবে অপব্যয় এবং আত্মসাতের অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে দুদকের অনুসন্ধানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভের জন্য দাখিল করা সিভিতে জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা ও ভুয়া যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৮/৪৭১ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।