
প্রিন্ট: ২৮ মার্চ ২০২৫, ০৩:০০ পিএম

হক ফারুক আহমেদ
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বিলুপ্ত হওয়া গোলা অঞ্জনের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যায় ১৮৭৭ সালে চট্টগ্রামে -সংগৃহীত
আরও পড়ুন
পঞ্চাশ থেকে শতাধিক বছর আগে দেশে বিলুপ্ত হওয়া গাছ আবার নতুন করে রোপণ করা হবে। পুনঃপ্রবর্তন করা হবে হারিয়ে যাওয়া এমনি সাত প্রকারের গাছ। এর মধ্যে চারটির খোঁজ মিলেছে নেপাল, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চীন, জাপান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামে। এসব দেশ থেকে চারা সংগ্রহ করে প্রথমে পরিকল্পিতভাবে গাছ রোপণ ও দেখাশোনা শেষে বীজ সংগ্রহ করা হবে। তারপর সেখান থেকে চারা তৈরি করে বনায়নের জন্য চেষ্টা করা হবে। এমনই উদ্যোগ নিয়েছে বন অধিদপ্তর।
আজ আন্তর্জাতিক বন দিবস। এ বছর আন্তর্জাতিক বন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বন বনানী সংরক্ষণ, খাদ্যের জন্য প্রয়োজন’। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, বন ধ্বংস, গাছ চুরির মতো নানা কারণে বন উজাড় হচ্ছে। এতসব নেতিবাচক বিষয়ের বিবেচনায় দেশে শতবর্ষ আগে বিলুপ্ত হওয়া গাছ পুনঃপ্রবর্তনের এই উদ্যোগ নতুন। ইন্টারন্যানাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) এর কারিগরি সহযোগিতায় বন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম দেশের এক হাজার উদ্ভিদের লাল তালিকা প্রস্তুত করে। গত বছরের নভেম্বরে এই তালিকা বই আকারে প্রকাশ করা হয়। সেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এক হাজার উদ্ভিদের মধ্যে কোনটি কোন পর্যায়ের ঝুঁকিতে আছে তা নির্ণয় করা হয়। এখানেই বিলুপ্তির তালিকায় পাওয়া যায় ৭টি গাছ। পরবর্তীতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দেশে বিলুপ্ত হওয়া এই সাত প্রকারের উদ্ভিদ পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। দেশে বিলুপ্ত হওয়া এই সাত প্রকারের উদ্ভিদের মধ্যে চারটি হলো কুরা জিরি, থুরমা জাম, গোলা অঞ্জন এবং সাতসরিলা। সাতসরিলা আবার সুফি ও কৈফল গাছ নামেও পরিচিত। বাকি তিনটি গাছ উদ্ভিদ জগতে ম্যাগনোলিয়া গ্যাফিথি, সিজাইজিয়াম থুমরা, ড্রাইপেটেস ভেনুসতা নামে পরিচিত। এই গাছগুলোর মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারড়া ইউনিয়নের সিগন্যাল হিলে কুরা জিরি গাছের সর্বশেষ রেকর্ড পাওয়া যায় ১৯৫৬ সালে। এই গাছটি বর্তমানে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার বা ইন্দোনেশিয়া থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাতসরিলা, সুফি বা কৈফল গাছের সর্বশেষ রেকর্ড পাওয়া যায় ১৮২৩ সালে সিলেটে। বর্তমানে গাছটি নতুন করে আনার পরিকল্প্ননা করা হচ্ছে জাপান, চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর বা মালায়া দ্বীপ থেকে। অন্যদিকে থুরমা জাম গাছের রেকর্ড সর্বশেষ পাওয়া যায় ১৯৪১ সালে। কক্সবাজারের সদর উপজেলা এবং উখিয়ার বালুখালি এবং ভুমুরিয়াগনায়। বর্তমানে এটি নতুন করে সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়া থেকে। গোলা অঞ্জন গাছটির সর্বশেষ রেকর্ড পাওয়া যায় ১৮৭৭ সালে চট্টগ্রামে। বিলুপ্ত হওয়া গাছটি আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে ভারত, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনাম থেকে। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, নতুন করে দেশে আনার জন্য চারটি গাছের খবর আমরা পেয়েছি। বিভিন্ন দেশের সরকারকে চারা চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তারা চারা দিতে রাজি হলে নিয়ে এসে প্রথমে আমরা ট্রায়াল করব। প্রথমে বনে দিলে হয়তো না-ও টিকতে পারে। সেজন্য প্রথমে আমদের সুরক্ষিত কোনো বাগানে গাছ লাগানো হবে। সেখান থেকে বড় হলে হয়তো বীজ হবে। ওই বীজ থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে চারা তৈরি করে বনে নিয়ে যাওয়া হবে। এদিকে বিলুপ্ত না হলেও দেশে বইলাম, গর্জন, হরিয়াম, চইলা প্রভৃতি গাছও ঝুঁকির মধ্যে আছে। কক্সবাজার, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, সিলেটে বিভিন্ন বনায়ন প্রকল্পে বন বিভাগ এসব গাছের বীজ সংগ্রহ করে নতুন করে গাছ রোপণ করছে বলে জানা গেছে। তবে মাটির ধরন, তাপমাত্রাসহ প্রাকৃতিক নানা পরিবর্তন হয়েছে। তাই নতুন করে রোপণ করা এসব গাছ থাকবে অনেকটাই নজরদারির মধ্যে। নতুন গাছের মধ্যে কক্সবাজারে প্রায় ৫০ হাজার রক্তচন্দন গাছও রোপণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।