
প্রিন্ট: ২৮ মার্চ ২০২৫, ০৩:০০ পিএম

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
আরও পড়ুন
ছুটিতে পাঠানো সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খিজির হায়াতকে অপসারণ করা হয়েছে। বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৮ মার্চ সংবিধানের ৯৬ (৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী খিজির হায়াতকে অপসারণ করেন রাষ্ট্রপতি। তবে তার অপসারণের কারণ সম্পর্কে সরকারিভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে ‘দলবাজ, দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্টের দোসর’ বিচারকদের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন শত শত বিক্ষোভকারী, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতিকে ২০ অক্টোবর থেকে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়। সেই ১২ বিচারপতির মধ্যে বিচারপতি খিজির হায়াতও ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন।
সুপ্রিমকোর্টের পাবলিক রিলেশন অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হাইকোর্ট বিভাগের ১২ জন বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে পাঠান। এই ১২ জনের মধ্যে জানুয়ারিতে একজন বিচারপতি পদত্যাগ করেন। দুজন বিচারপতি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারক হিসাবে নিয়োগ পাননি এবং অপর দুজন বিচারপতি ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন। এছাড়াও চারজন বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অপর তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান চলমান ছিল।
সূত্র জানায়, অনুসন্ধান পর্যায়ে থাকা এ ৭ জনের মধ্যে বিচারপতি খিজির হায়াতও ছিলেন। এখন অবশিষ্ট ৬ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান আছে।
সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র মুয়াজ্জেম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ১২ বিচারপতির বাকি ছয়জনের বিষয়ে তদন্ত করছেন। ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের জুনিয়র বিচারক ছিলেন বিচারপতি খিজির হায়াত। বেঞ্চটি সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য বহুল আলোচিত ৩০ শতাংশ কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, যা গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
বিচারিক দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বিচারপতিরা হলেন-বিচারপতি আতাউর রহমান খান, বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস, বিচারপতি খিজির হায়াত, এসএম মনিরুজ্জামান, খোন্দকার দিলীরুজ্জামান, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান, বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন, বিচারপতি আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এসএম মাসুদ হোসেন দোলন।