Logo
Logo
×

নগর-মহানগর

ফলে শুল্ক কমানোর দাবি

চট্টগ্রামে বন্ধ ডেলিভারি বেনাপোলে আমদানি

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো ও বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সব ধরনের ফলমূল খালাস নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার থেকে বন্দর থেকে কোনো ফলের কনটেইনার ডেলিভারি হয়নি। এদিকে ফল আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রতিবাদে বেনাপোল বন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফল আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় ফলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি ইয়ার্ডে আপেল, কমলা, মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের ২৪০টি কনটেইনার ছিল। এসব কনটেইনারে ৬ হাজার টনের মতো ফলমূল রয়েছে। আমদানিকারকরা ইনডেন্ট বা চাহিদাপত্র না দেওয়ায় ফলের কনটেইনার ডেলিভারি হয়নি।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ও পুষ্টিকর ফলকে বিলাসী পণ্য ঘোষণা দিয়ে শুল্ক প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এটি দুঃখজনক। এই সিদ্ধান্তের ফলে সব ধরনের ফলমূলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে। ফলের ওপর অ্যাসেসমেন্ট ও এলসি ভ্যালু মিলে ১৩৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই শুল্ক অর্ধেক করার দাবিতে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস অ্যাসোসিয়েশন আন্দোলন করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি আদায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছি। দাবি আদায় না হওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রামে ফলমূল খালাস ২ দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছি। সরকার বা এনবিআর যদি দাবি না মানে তবে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সামনে পবিত্র রমজান মাস। সরকারের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষ ফলের স্বাদ নিতে পারবেন না।

এদিকে অতিরিক্ত শুল্ককর প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর দিয়ে কোনো ফল ভারত থেকে আমদানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন বেনাপোল আমদানি ও রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান। স্থানীয় ফল আমদানিকারকরা বলছেন, রমজান মাসে ফলের চাহিদা একটু বেশি থাকে। রমজানের আগে ফলের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করায় ব্যবসায়ীরা ফল আমদানি বন্ধের আলটিমেটাম দিয়েছেন। এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ ট্রাক ফল আমদানি হতো। সেটি এখন ২০ থেকে ২২ ট্রাকে এসে দাঁড়িয়েছে। জিয়াউর রহমান বলেন, ফল আমদানিতে সরকার হঠাৎ করে ১০% সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। যার প্রভাব পড়েছে বেনাপোলসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরের ওপরে। যার কারণে আমদানি একদম শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এর ফলশ্রুতিতে ঢাকার বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন আজ (মঙ্গলবার) থেকে ফল আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছে। বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান জানান, সরকার অতিরিক্ত শুল্কারোপ করায় আজ থেকে ফল আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকার ফল আমদানিকারকরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে অতিরিক্ত শুল্ককর প্রত্যাহারের জন্য চিঠি দিয়েছেন। চিঠির কোনো উত্তর আমরা পাইনি। এসংক্রান্ত নির্দেশনা পেলে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Jamuna Electronics
wholesaleclub

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম