Logo
Logo
×

নগর-মহানগর

৪৪২ বছরের প্রাচীন খেরুয়া মসজিদ

সংস্কার হয়নি তিন যুগেও ধ্বংসের আশঙ্কা

মো. নাজমুল হুদা নাসিম

মো. নাজমুল হুদা নাসিম

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার শেরপুরে ৪৪২ বছরের প্রাচীন মোগল আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক খেরুয়া মসজিদটি অবহেলার শিকার। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটির দায়িত্ব নিলেও প্রায় তিন যুগ সংস্কার করা হয়নি। তিনটি গম্বুজ ও বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। মসজিদের বাইরের অংশ মোটামুটি ভালো থাকলেও ভেতরে ইটগুলো ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছে। বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি পড়ে। মুসল্লিরা অনেক কষ্টে নামাজ আদায় করে থাকেন। সচেতন এলাকাবাসী পর্যটক বাড়াতে ও ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মসজিদটি সংস্কারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার ও শেরপুর উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটার দূরে শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা এলাকায় খেরুয়া মসজিদ অবস্থিত। জনশ্রুতি রয়েছে, মসজিদটি এক রাতের মধ্যে মাটি থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে এর সপক্ষে জোরালো কোনো দলিল নেই। পূর্ব পাশে মসজিদের গায়ে একটি ফার্সি হরফে শিলালিপি রয়েছে। এর বাংলা অনুবাদে বলা হয়েছে, ১৫৮২ সালে নবাব মির্জা মুরাদ খান কাকশালের পৃষ্ঠপোষকতায় খেরুয়া মসজিদ নির্মিত হয়। স্থানীয় আবদুস সামাদ ফকিরের তদারকিতে সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যশৈলীতে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। মসজিদ চত্বরেই রয়েছে তার কবর।

প্রায় ৫৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের মসজিদের ওপরে রয়েছে, তিনটি বড় গম্বুজ। চারকোণে অষ্টকোণী মিনার আছে। পূর্ব পাশে তিনটি, উত্তর পাশে একটি ও দক্ষিণ পাশে একটিসহ মোট পাঁচটি ছোট দরজা রয়েছে। দেওয়ালের পুরুত্ব প্রায় ছয় ফুট। পুরো মসজিদ ছোট ছোট ইট দিয়ে নির্মিত। মূল দরজার দুপাশে বামে ফার্সি শিলালিপি রয়েছে। তবে ডান পাশেরটি পাকিস্তানের করাচি জাদুঘরে আছে। ভেতরে আয়তাকার ফ্রেমের মধ্যে অর্ধ গোলাকার মেহরাব ও কার্নিশগুলো বাঁকানো। বাইরের দেওয়ালে ফুলের ডিজাইন রয়েছে। ভেতরে তেমন কিছু নেই। মসজিদের ছাদের চারপাশে কবুতর ও শালিক পাখি বাস করে। প্রায় ৫৯ শতাংশ জুড়ে মসজিদ চত্বরে রয়েছে, বিভিন্ন জাতের ফলদ ও বনজ বৃক্ষ। গ্রিল ও ইটের প্রাচীরে ঘেরা মসজিদের প্রধান ফটকের পাশে রয়েছে, প্রায় মিশে যাওয়া অস্পষ্ট নামফলকসহ ইতিহাস। নামাজের সময় ছাড়া মসজিদে কেউ প্রবেশ করেন না। মসজিদে তিনটি কাতারে ৯০ জন একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজান মাসে তারাবি ও চত্বরে দুই ঈদে নামাজ আদায় হয়। বারান্দা না থাকায় ওয়াক্তিয়া ও জুমার দিন বেশি মুসল্লি হলে মাঠে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করতে হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুস সালাম শাহীন জানান, খেরুয়া মসজিদ পরিদর্শন করতে প্রতিদিন ২৫ থেকে ১০০ জন পর্যটক আসেন। তবে মসজিদে যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থা ভালো নয়। বৃষ্টি হলেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। মসজিদের অবস্থান জানাতে রাস্তায় কোনো সাইনবোর্ড নেই। তিনি বলেন, সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খেরুয়া মসজিদটি সংস্কার করে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটি দেখভাল করতে ৩৬ বছর আগে স্থানীয় আবদুস সামাদ নামে এক ব্যক্তিকে সাইড পরিদর্শক হিসাবে নিয়োগ দিয়েছে।

আবদুস সামাদ জানান, স্বাধীনতার পর আর সেভাবে সংস্কার হয়নি। বৃষ্টি হলে মসজিদে পানি পড়ে। মসজিদের ইটে নোনা ধরেছে। সংস্কার না করলে ইটগুলো ক্ষয়ে মসজিদ ধ্বংস হয়ে যাবে।

মিজানুর রহমান নামে এক পর্যটক জানান, ইন্টারনেটে অবগত হয়ে খেরুয়া মসজিদ দেখতে এসেছেন। তবে ঐতিহাসিক মসজিদটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি মোগল আমলের এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সংস্কার দাবি করেন।

শনিবার দুপুরে বগুড়ায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানাকে কল করলে তিনি ফোন বন্ধ করে দেন। তবে তিনি অন্য সাংবাদিকদের বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই খেরুয়া মসজিদের সংস্কার কাজ করা হবে।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম