
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বেশিরভাগ ম্যাচই একপেশে হয়ে যাচ্ছিল। ওয়ানডে খেলার আবেদন এমনিতেই পড়তির দিকে, সে দিক বিচার করলে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি একদিনের ক্রিকেটের আকর্ষণ বাড়াতে খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারছিল না। তবে আফগানিস্তান এবং ইংল্যান্ড অবশেষে সে গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিল। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে তারা উপহার দিয়েছে এক মহাকাব্যিক দ্বৈরথ, যাতে শেষ হাসি হেসেছে আফগানিস্তান। ইংলিশদের ৮ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবার খেলতে এসেই জয় তুলে নিয়েছে তারা।
আফগানদের এই রূপকথার মতো জয়ের চিত্রনাট্য প্রথম ইনিংসেই দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে লিখেছিলেন ইবরাহিম জাদরান। তার ১৪৬ বলে এক ডজন চার ও আধ ডজন ছক্কায় খেলা ১৭৭ রানের ইনিংসে জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায় দলটির। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলে আফগানদের ৩২৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পেতে সাহায্য করেন তিনি।
জবাব দিতে নামা ইংল্যান্ডের ইনিংসের হাল ধরেন জো রুট। ১১১ বলে ১১ চার এবং ১ ছক্কায় ১২০ রান আসে এই অভিজ্ঞ ইংলিশ ক্রিকেটারের ব্যাটে। কিন্তু ৩২৬ রান তাড়া করতে নেমে শুধু রুট ছাড়া ইংল্যান্ডের আর কোনো ব্যাটার বলার মতো ইনিংস খেলতে পারেননি।
বিশেষ করে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের মিডিয়াম পেসের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ ব্যাটার। ৫৮ রানে ৫ উইকেট তুলে ইংলিশদের খাদের কিনারায় ঠেলে দেন তিনি।
ফলাফল তীরে গিয়েও তরী ডুবেছে ইংল্যান্ডের। ৩২৬ রান তাড়া করতে গিয়ে ৩১৭ রানেই সব উইকেট খুইয়েছে দলটি। টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। কারণ সমান তিনটি করে পয়েন্ট ঝুলিতে পুরে এখন গ্রুপ বি'র শীর্ষ দুটি স্থান যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার দখলে। নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলেও ওই দুই দলকে ছোঁয়া হবে না ইংলিশদের। আর আজ অভাবনীয় জয়ের দেখা পাওয়া আফগানরা দুই ম্যাচ থেকে দুই পয়েন্ট নিয়ে এখনো ভালোভাবেই টিকে আছে সেমির দৌড়ে। তাদের শেষ ম্যাচ ২৮ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।