ইবরাহিম-বীরত্বে এখন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন আফগানদের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৩ পিএম

স্কোরকার্ডটা বলছিল আফগানদের রান ৩৭, তা তুলতেই নেই ৩ উইকেট। সে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ‘অনভিজ্ঞ’ আফগানদেরকে ৫০ ওভারের এর অনেক আগেই অলআউট করা যাবে, এমনটাই হয়তো মনে করছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষমেশ হলো ঠিক তার উল্টোটা। ৫০তম ওভার শেষে দলটা তুলে ফেলল ৩২৫ রানের পাহাড়। তার কৃতিত্বটা সবচেয়ে বেশি ইবরাহিম জাদরানের। তার রেকর্ডগড়া এক ইনিংসই তো বিশাল এই পুঁজি পাইয়ে দিয়েছে আফগানিস্তানকে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বি গ্রুপে লড়াইটা জমে উঠেছে গতকাল অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পরপর। ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান দু’দলই একটি করে ম্যাচ হেরে এ ম্যাচে এসেছিল, যার ফলে টিকে থাকার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ম্যাচ।
হারলেই বিদায় নিতে হবে, এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে টস জেতে আফগানিস্তান। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে তারা শুরুতে নেয় ব্যাট করার সিদ্ধান্ত। শুরুটা ভালো হয়নি। চাপে পড়ে নবাগত দলটা। জফরা আরচারের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ১৫ রানেই হারায় দুই ব্যাটারকে। পাওয়ারপ্লের শেষেও ধাক্কা সামলাতে পারেনি তারা, ৩৭ রানে হারিয়ে ফেলে তিন উইকেট। তখন সমূহ বিপদের প্রমাদই গুণছিল আফগানরা।
ইবরাহিম-বীরত্বের শুরু ওখানেই। ওপেন করতে নেমে তিন সঙ্গীকে একের পর এক সাজঘরে ফিরতে দেখেছেন। তবে তিনি তার ধৈর্য্য হারাননি। চতুর্থ উইকেটে গিয়ে পান যোগ্য সঙ্গটা। হাশমতউল্লাহ শহিদির সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১০৩ রানের জুটি।
অধিনায়ক শাহিদির বিদায়ের পরও সুতোয় ঢিল দেননি। ৩০ থেকে ৪০ এই দশ ওভারে দলটা তোলে ৬৯ রান, এর কৃতিত্বটা অবশ্য আজমতউল্লাহ ওমরজাই বেশি পাবেন। তার ৩১ বলে ৪১ রানের ইনিংসটা বড় রানের দিশা দিয়ে যায় আফগানদের। ওমরজাইয়ের বিদায়ের পর শেষ ১০ ওভারে আফগানরা ১১৩ রান তুলেছে। তাতে বড় অবদান রেখেছেন মোহাম্মদ নবী। ২৪ বলে ৪০ রান করেছেন স্লগ ওভারে।
তবে সেটা কোনোভাবেই ইবরাহিমের বীরত্বকে ছাপিয়ে যায় না। কেন তা একটা তথ্যে পরিষ্কার। ইবরাহিম সেঞ্চুরিটা পূরণ করেন ৩৭তম ওভারে, ১০৬ বল খেলে। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, আফগান ওপেনার যেন বিধ্বংসী রূপ নিয়েছেন ততই। সেঞ্চুরির পর থেকে বিদায়ের আগ পর্যন্ত তিনি আরও ৪০ বল খেলেছেন, রান তুলেছেন ৭৭টি। পুরো ইনিংসে ইবরাহিম তার স্কিলের প্রদর্শনী দেখিয়েছেন, কম যায়নি তার ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা, সে অনুযায়ী ভূমিকা বদলে ফেলার দক্ষতা, সব মিলিয়ে বড় ইনিংসে তা রূপ দেওয়ার বিষয়টা।
এমন এক ইনিংস রেকর্ডের পাতাতেই তুলে দিয়েছে তাকে। আফগানদের হয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সেঞ্চুরি এটি। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির রেকর্ডই তো ইবরাহিম ভেঙে ফেলেছেন। বেন ডাকেট এক সপ্তাহের কম সময় আগে ১৬৫ রানের ইনিংস খেলে গড়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সবচেয়ে বড় ইনিংস খেলার রেকর্ড। সে ডাকেটের দলের বিপক্ষেই আজ সেটা দুইয়ে ঠেলে দিয়ে ১৭৭ রানের ইনিংসটা খেলেন ইবরাহিম। ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেইন তো বলেই ফেললেন, তার দেখা অন্যতম সেরা ইনিংস এটিই।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে দুই ম্যাচেই আশা শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল আফগানরা। সেই দলটা এখন দেখছে ২০২৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর সুখস্মৃতির পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন। তা হয়ে গেলে আরও এক ইতিহাস গড়া হয়ে যাবে তাদের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম জয়ের ইতিহাস। যে ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশের লেগেছিল ৪টি আসর, সেখানে আফগানরা সে স্বাদ পেয়ে যেতে পারে দ্বিতীয় ম্যাচেই।
ঘণ্টা তিনেকের এদিক ওদিকে আফগান জাতির মনের ভাবটা বদলেছে এভাবেই। আর তার কুশীলব ইবরাহিম। এমন কিছু বীরত্ব নয়তো কী?