
প্রিন্ট: ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:২২ এএম
ভ্যানে চড়ে আখতার হোসেনের গণসংযোগ
সংস্কার কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হলে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হবে সরকার

রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ০৯:৫৭ পিএম

আরও পড়ুন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিসি) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার ও বিচার কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হবে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচনের বাস্তবতা আছে।
তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদী, এই একনায়কতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক সংবিধানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শাসনকাঠামো পরিচালিত হোক, এটা আর দেশের মানুষ চান না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ নির্বাচনি এলাকা রংপুর-৪ আসনের পীরগাছা উপজেলায় যাওয়ার পথে শহরের মাহিগঞ্জ এলাকায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব নির্বাচিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো নিজ এলাকা রংপুরে আসেন তিনি। এ দিন দুপুরে রংপুর শহরের সাতমাথা থেকে জনসংযোগ শুরু করেন তিনি। পরে ভ্যানযোগে পীরগাছা উপজেলার হাউদারপাড়, দেউতি, সৈয়দপুর, কদমতলা, চন্ডিপুর, পীরগাছা উপজেলা সদর, নেকমামুদ, পাওটানাহাট হয়েছে কাউনিয়া উপজেলার রতনপুর, ভায়ারহাটসহ কয়েকটি জায়গায় জনসংযোগ শেষে টেপামধুপুর বাজারের কারবালা মাঠে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে নেবেন।
এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয়, রংপুর বিভাগ, জেলা ও স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন অংশ নেন।
আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির যোগসাজশে এই তিনটি ডামি নির্বাচন হয়েছে। প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দল দুটির ফ্যাসিবাদীর কারণে দীর্ঘ সময়ে গণতন্ত্রের আবহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশের মানুষ। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘকাল থেকে ফ্যাসিবাদীর যাতাকলে পিষ্ঠ ছিল, তার পেছনে সব থেকে বড় শক্তি ছিল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালে যে গণহত্যা হয়েছে, তার মদদদাতা হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও তার দোসর জাতীয় পার্টি। বাংলাদেশের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডসহ সব গণহত্যার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জড়িত। বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ চাপিয়ে দিয়ে যারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে লুণ্ঠন করে নিয়ে গেছে, এই শক্তি কোন ভাবে গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি নয়। গণতন্ত্রকামি কোনো মানুষ, কোনোভাবেই আর কোনো দেশ ফ্যাসিবাদী দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় না। সেই জায়গা থেকে আমরা মনে করি কোন ফ্যাসিবাদী শক্তি ‘ইনক্লুসিভ’ শক্তি নির্বাচনের উপদান হতে পারে না। আমাদের দাবি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে, নিষিদ্ধ করতে হবে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন দলটির প্রস্তুতি নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠকরা সারা দেশে কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছেন। তারা মানুষের দেশের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। তারা আশাবাদী অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচনের নিবন্ধন পেতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি সেগুলো পূরণ করতে পারবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই বলে দাবি করেছেন দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার ভাষ্যমতে, গণ-অভ্যুত্থানের প্রথমসারির নেতৃত্বের সবাই এই দলের হাল ধরেছেন। এটি একক কোনো ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন দল নয়।
জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ডিসেম্বর অথবা জুনের মধ্যে যে নির্বাচন করার কথা বলেছেন, সেটি নিয়েও কথা বলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, সরকারের তরফে যদি সদিচ্ছা থাকে এ সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচার দৃশ্যমান করা সম্ভব। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করে তাহলে সংস্কার ও বিচার কার্যক্রম অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান করে নির্বাচনের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।