
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩০ এএম
একপক্ষ সেনাবাহিনীকে উসকানি দিয়ে ওয়ান ইলেভেনের চক্রান্ত করছে: রাশেদ খান

যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৫, ১১:০৮ পিএম

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, একটি পক্ষ সেনাবাহিনীকে উসকানি দিয়ে আরেকটি ওয়ান ইলেভেন তৈরি করার চক্রান্ত করছে। জনগণকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করা হচ্ছে। এই চক্রান্তের সঙ্গে দেশি ও বিদেশি চক্রান্তকারী জড়িত। তাদের বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
সোমবার যশোর শহরের একটি হোটেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদের স্মরণে গণঅধিকার পরিষদ যশোর জেলা শাখা আয়োজিত আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান বলেন, সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যদি সেনাবাহিনী ভূমিকা না রাখত, তাহলে অভ্যুত্থানে সফল হতো না। যখন সেনাবাহিনীর বন্দুকের নল আওয়ামী লীগে দিকে, ফ্যাসিস্ট পুলিশের দিকে তাক করেছিল তখনই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। এখন সেই সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি করার চক্রান্ত শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি এবিএম আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, গণঅধিকার পরিষদের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল প্রমুখ।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে রাশেদ খান বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব অনেক। এই সরকার যদি গণহত্যার বিচার সঠিকভাবে না করতে পারে; তাহলে গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। এই সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করতে পারে, তাহলে দুই হাজার শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। এই মুহূর্তে সব রাজনৈতিক দল একতাবদ্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের ব্যাপারে। আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চালিয়েছে, তারপরেও এই দল কোনোভাবেই আর রাজনীতি করতে পারে না। কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না।
তিনি বলেন, আমাদের স্পষ্ট কথা, আমরা যারা রক্ত দিয়েছি, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি তাদরে বক্তব্য হলো- আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচন কেন, আওয়ামী লীগ বাংলার মাটিতে আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এই ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যমত দরকার। ঐকমত্য যদি না থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগ ফিরে এসে আমাদের কাউকেই রেহায় দেবে না। আওয়ামী লীগকে সবাইরে ফাঁসিতে ঝোলাবে। তাই এই সরকারকে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করতে হবে। যারা গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছে তাদের ডাকতে হবে। তিনি না করে নিষিদ্ধের ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। তিনি কেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারছেন না, তিনি কি আন্তর্জাতিক চাপের কারণেই নিষিদ্ধ করতে পারছেন না বলে প্রশ্ন রাখেন রাশেদ খান।