
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১:২৪ এএম
আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ

ঢাবি প্রতিনিধি ও যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৫, ১২:১৮ এএম

ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। গণহত্যার অভিযোগে এই দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর বিচার কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক জাতীয় নাগরিক পার্টির (দক্ষিণাঞ্চল) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর এক ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়।
সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের ব্যানারে দলটিকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা হচ্ছে। আর সেনানিবাস থেকে তাদের কয়েকজনকে সেই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এমন ফেসবুক স্ট্যাটাসের পরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ হয়। আবারও সামনে আসে ছাত্র-জনতা হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের ইস্যু। শুক্রবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ শ্বিবিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে প্রথমে বিক্ষাভ মিছিল বের করে ইনকিলাব মঞ্চ। মধুর ক্যান্টিন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হলপাড়া ঘুরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে সমাবেশ করেন তারা। বিক্ষোভকারীরা বলেন, যাদের হাতে হাজারো ছাত্র-জনতার রক্ত লেগে আছে এ দেশে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। কেউ যদি তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করে পরিণতিও ভয়াবহ হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিনিধিদল। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ড. কমফোর্ট ইরোর নেতৃত্বাধীন ওই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে দলের যেসব নেতার বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বাংলাদেশের আদালতে বিচার করা হবে।’
মূলত এই বক্তব্য গণমাধ্যমে আসার পরপরই ছাত্র-জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (দক্ষিণাঞ্চল) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে হাসনাত লিখেন, ‘ড. ইউনূস, আওয়ামী লীগ ৫ আগস্টই নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। উত্তরপাড়া ও ভারতের প্রেসক্রিপশনে আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ওপেন করার চেষ্টা করে লাভ নেই।’
তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে সম্বোধন করে এই পোস্ট দেওয়ার এক ঘণ্টার মাথায় আরেকটি লম্বা স্ট্যাটাস দেন এবং তিনি তার এই বক্তব্যের কারণ খোলাসা করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর ফেসবুক পোস্টের পরপরই প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ও শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে এই মিছিল করা হয়। পরে মিছিলটি হলপাড়া-প্রশাসনিক ভবন-ভিসি চত্বর হয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় তারা ‘আওয়ামী লীগের বিচার চাই, করতে হবে করতে হবে’; ‘আওয়ামী লীগের গদিতে, আগুন জ্বালো একসঙ্গে’; ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’; ‘ইউনূস সাহেবের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে, গণহত্যার বিচার চাই’সহ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদী বলেন, আওয়ামী লীগকে নিয়ে নির্বাচন করতে চাইলে বাংলাদেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। দুই হাজারের অধিক শহিদ এবং হাজার হাজার আহতের রক্তের শপথ, আমাদের দেহে একবিন্দু রক্ত থাকতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে দেব না।
এদিকে শুক্রবার সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমাবেশ করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)। এর আগে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে।
বাগছাসের সদস্য সচিব জাহিদ আহসান বলেন, রিফাইন আওয়ামী লীগ নামে কোনো আওয়ামী লীগ হয় না। আওয়ামী লীগ মানেই আওয়ামী লীগ। ১৯৭৫ সালে এই ফর্মুলা দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফেরত আনা হয়েছে। নামে-বেনামে আওয়ামী লীগকে ফেরত এনে শেখ পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশকে আরও একটি গণহত্যার দিকে ঠেলে দিতে আমরা জুলাইয়ে রক্ত দেইনি।
বাগছাসের মুখপাত্র আশরেফা খাতুন বলেন, যতদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হয়, আওয়ামী লীগের বিচার না হয় ততদিন পর্যন্ত আমরা রাস্তায় থাকব। মুখ্য সংগঠক তাহমীদ আল মুদ্দাসিসর চৌধুরী বলেন, আমরা ভারত-পাকিস্তানমুখী রাজনীতি শেষ করে ফেলেছি। আমরা আর ভারত-পাকিস্তানমুখী রাজনীতি করতে চাই না। ভারতের প্রেসক্রিপশনে নতুন করে বাংলাদেশের রাজনীতি কি হবে, বাংলাদেশের ভাগ্য কি হবে সেটি আমরা কখনোই মেনে নেব না।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাবি শাখার মুখপাত্র রাফিয়া রেহনুমা হৃদি, ঢাবি শাখার সদস্য সচিব মহির আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। শুক্রবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা করা হয়।
নতুন এই প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবি জোবায়ের। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আগ পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম কর্মসূচি পালন করবে এবং আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মের কাজ সমাপ্ত হবে।
এর আগে বেলা সোয়া ৩টায় ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই’-শীর্ষক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এবং আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া থেকে শিক্ষার্থীদের মিছিল বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের আগে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা। নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা বলেন, শনিবার বিকাল ৫টায় ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ মঞ্চ’র আয়োজনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণইফতার কর্মসূচি পালন করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাবির হলপাড়া থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভিসি চত্বর হয়ে রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করো, করতে হবে’, সারা বাংলায় খবর দে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, জুলাইয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যারা গণহত্যা করেছিল এবং মদদ দিয়েছিল সেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য কোনো পদক্ষেপ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিতে দেখিনি। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।
হাসনাত আবদুল্লাহর স্ট্যাটাসে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ: বৃহস্পতিার রাতে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক জাতীয় নাগরিক পার্টির (দক্ষিণাঞ্চল) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুলাহ এই ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “১১ই মার্চ, সময় দুপুর ২:৩০। কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। আমিসহ আরও দুইজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ই মার্চ দুপুর ২:৩০-এ। আমাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদেরকে বলা হয়Ñইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছেÑতারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা না-কি ভালো। ফলশ্র“তিতে আপনি দেখবেন গত দুইদিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে। আমাদেরকে আরও বলা হয়Ñরিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্র“তি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে। আমাদেরকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তৎক্ষণাৎ বিরোধিতা করি এবং জানাই যে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন। এর উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোন ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক’।”
স্ট্যাটাসে আরও লেখেন, “আলোচনার একপর্যায়ে বলি-যেই দল এখনো ক্ষমা চায় নাই, অপরাধ স্বীকার করে নাই, সেই দলকে আপনারা কিভাবে ক্ষমা করে দিবেন! অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডম এন্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ছাড়া ‘ইনক্লুসিভ’ ইলেকশন হবে না।” উত্তরে বলি, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোন ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না। আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা করা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে।’ পরে মিটিং অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময়ও আমাদের দিয়ে অনেক কিছু করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কখনো এজেন্সি কখনো বা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নানা ধরনের প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে চাপ দেওয়া হয়েছে। আমরা ওসব চাপে নতি স্বীকার না করে আপনাদের তথা জনগণের ওপরেই আস্থা রেখেছি। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই হাসিনার চ‚ড়ান্ত পতন ঘটিয়েছি।
হাসনাত আরও লেখেন, আজকেও ক্যান্টনমেন্টের চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারও আপনাদের ওপরেই ভরসা রাখতে চাই। এ পোস্ট দেওয়ার পর আমার কী হবে আমি জানি না। নানামুখী প্রেশারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নাই। জুলাইয়ের দিনগুলোতে জনগণের স্রোতে ক্যান্টনমেন্ট আর এজেন্সির সব প্রেসক্রিপশন আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ আবারও যদি আপনাদের সমর্থন পাই, রাজপথে আপনাদের পাশে পাই তবে আবারও এই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ভারতীয় ষড়যন্ত্রও আমরা উড়িয়ে দিতে পারব। আসুন, সবাই যদি কিন্তু পাশে রেখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারলে জুলাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমাদের শহিদদের রক্ত আমরা বৃথা হতে দিব না। ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কামব্যাকের আর কোনো সুযোগ নাই বরং আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ হতেই হবে।’
গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ পর্যন্ত লড়াই চলবে- সারজিস : জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘লড়াইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ের জন্য আমরা প্রস্তুত। গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ পর্যন্ত এ লড়াই চলবে। আরেক স্ট্যাটাসে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়কারী আব্দুল হান্নান মাসউদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, ‘জলপাই রং কিংবা ইন্ডিয়া যারাই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে, তা জুলাইয়ের মতোই প্রতিহত করা হবে। উপদেষ্টা পরিষদের যারা তাদের এ এজেন্ডায় সায় দেবে তারা উপদেষ্টা থাকার নৈতিক অধিকার হারাবে। ধীরে ধীরে সব প্রকাশ করা হবে... যারা ছাত্রনেতা কিংবা ছাত্র উপদেষ্টাদের মাথায় লবণ রেখে বরই খাওয়ার চিন্তা কিংবা চেষ্টা করছেন, সেসকল ব্যক্তিদের মুখোশও উন্মোচন করা হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব থেকে যখন কেউ তাদের আওয়ামী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সরাসরি বিরোধিতা করেছে, ঠিক তখনি নিউজ মিডিয়া কিংবা তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার করে তাদের বিতর্কিত করার জন্যে মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হয়েছে।
ফেসবুকে তিনি লেখেন, গত দেড় মাস ধরে যার শিকার হয়ে যাচ্ছি আমি নিজেও। শিকার হয়েছেন নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, মাহফুজ আবদুলাহ, হাসনাত আবদুলাহসহ প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষ। আর তাদের প্রতিটি প্রোপাগান্ডায় নিয়মিত অংশ নিয়েছে এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক সচেতন শিক্ষার্থীসহ, তথাকথিত সুশীলগণও। কারও তথ্যপ্রমাণহীন পোস্টকে ইউনিভার্সাল ট্র–থ ধরে নিয়ে অনলাইন ব্যাশিংয়ের শিকার করা হয়েছে। ‘কিভাবে গোয়েন্দা সংস্থা প্লট সাজায়, আর সেই প্লটের অংশীজন হয়ে উঠে তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সাররাও- লিখেছিলাম কয়েকদিন আগেই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আজ অন্তত অনুধাবন করুন।’
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, ইসলামী ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। একই দাবিতে কুমিল্লায় এনসিপি ও চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ বিক্ষোভ করেছে। শুক্রবার বাদ জুমা এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
রংপুর ও বেরোবি : বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান ফটকের সামনে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ,’ ‘সেনানিবাস না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’, ‘আমার সোনার বাংলায় খুনি লীগের ঠাঁই নাই’, ‘ফ্যাসিবাদের দোসরেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাসহ নানা স্লোগান দেন। প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে তারা বলেন, আ.লীগকে নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।
রাবি : রাবি কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিল বের হয়ে তালাইমারি মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। আ.লীগের পুনর্বাসনকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, এক্ষেত্রে ক্যান্টনমেন্ট হোক বা কোনো রাজনৈতিক দল হোক কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।
জাবি : আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে দলটিকে নিষিদ্ধের দাবিতে প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে শহিদ মিনার, নতুন কলা ভবন ঘুরে মিছিল পুনরায় প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। ‘আ.লীগকে নিষিদ্ধ কর, করতে হবে’ ‘আ.লীগের ঠিকানা এ বাংলায় হবে না’ ‘আ.লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, আ.লীগ নো মোর’, ‘জেনারেল ওয়াকার, সাবধান সাবধান!’ ইত্যাদি স্লোগান শিক্ষার্থীদের দিতে দেখা যায়।
ইবি : দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ যে ধরনের অপরাধ ও অপকর্ম করেছে তাতে তাদের পুনর্বাসন বা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর অধিকার নেই। অনতিবিলম্বে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
জবি : বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিল শুরু হয়ে মূল ফটকের সামনে শেষ হয়। ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি বন্ধ কর, করতে হবে’, ‘ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ একসঙ্গে চলে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘গড়িমসি বন্ধ কর, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ কর’, ‘চব্বিশের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’সহ তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কুমিল্লা : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিক্ষোভ মিছিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুমিলা মহানগর ও জেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। নগরীর ঝাউতলা ছাতা মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে ‘তুমি কে, আমি কে, হাসনাত হাসনাত, আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না, ক্ষমতা না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ, আওয়ামী লীগের দালালরা হুঁশিয়ার সাবধান’ শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন।
চট্টগ্রাম : নগরীর আন্দরকিলা থেকে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নিউ মার্কেট চত্বরে পৌঁছলে সেখানে সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রামের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা বলেন, সাত মাস পেরিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। তারা বলেন, যতদিন পর্যন্ত দেশে ন্যায়, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন সংগ্রাম চলবে।