
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০৮ পিএম

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৫, ১০:৪২ পিএম

মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে আবার অভ্যুত্থানের সৃষ্টি হবে। কারণ বিচারের আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ নেই। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতায় জাতিসংঘ, আরব লীগ, ওআইসি ‘নীরব ভূমিকা’ পালন করছে অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। বলেন, ফিলিস্তিনের পাশাপাশি আমরা দেখতে পাচ্ছি ভারতেও মুসলমানদের ওপর দমন পীড়ন চালানো হচ্ছে। সেখানে মুসলমানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলবার পায়তারা চলছে। আওরঙ্গজেবের সমাধিতে ভারত যদি কোনো আঘাত করে, তাহলে এ দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মনোভাব নরম করা যাবে না। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের নির্দেশে বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে এক্সেপ্ট ইসরায়েল শব্দটি উঠিয়ে দিয়েছিল। বর্তমান সরকারের কাছে আহবান জানাচ্ছি, পাসপোর্টে আবার এক্সেপ্ট ইসরায়েল শব্দ পুনর্বহাল করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার পিলখানা গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্বর, মোদীবিরোধী আন্দোলন, জুলাই অভ্যুথানে যে গণহত্যা চালিয়েছে, সেসবের বিচার ব্যতিত দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার নাম-নিশানা দেশের মানুষ বরদাশত করবে না।
আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা তাদের রুখে দেবে বলে বিক্ষোভ সমাবেশে মন্তব্য করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর আহমেদ আলী কাসেমী। তিনি বলেন, ভারতে মুসলমানদের উসকে দেওয়ার জন্য আওরঙ্গজেবের মাজারে হাত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিজেপিকে বলতে চাই, বাংলাদেশের বিষয়ে তোমরা নাক গলাচ্ছো। বাংলাদেশের খুনিকে তোমরা আশ্রয় দিয়েছো। আর তাকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে দেশপ্রেমিক মানুষের সঙ্গে তোমরা গাদ্দারি করেছো।
তিনি বলেন, গাজাবাসী যখন সেহেরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা করা হয়। আমরা জানতে পেরেছি সে হামলায় ৪০০ নারী পুরুষ নিহত হয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর হেফাজতের সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুর রকিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।