
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:০৯ এএম

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৫, ০৯:৫১ পিএম

বিদেশি বা অন্য কোনো মহলের চাপে ফ্যাসিবাদী দল হিসাবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থানরত ছাত্র-জনতা।
তাদের দাবি, এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরির ও উগ্রবাদীদের মাঠে নামানো হয়েছে। যার সুস্পষ্ট মতলব হলো জনপরিসরে বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন জায়গা করে নিতে পারলে ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগকেও পুনর্বাসন করানো যাবে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন গণঅবস্থানের সংগঠক ও বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহেদ।
তিনি বলেন, আমরা গত ২৪ দিন ধরে ফ্যাসিবাদী দল হিসাবে আওয়ামী লীগ ও দোসর দলগুলোকে নিষিদ্ধের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে লাগাতার গণঅবস্থান পালন করছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আমরা এ পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাইনি। এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে কোনো কথা বলছে না।
তিনি আরও বলেন, এদের মধ্যে আমরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে তার কার্যালয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়ে এসেছি। তবে আমরা তার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি। বরং বিস্ময়কর ব্যাপার হলো প্রধান উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, আওয়ামী লীগকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নির্বাচন আসবে কিনা। তার এই বক্তব্য মূলত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের দুরভিসন্ধির অংশ। আমরা মনে করি বিদেশি বা অন্য কোনো মহলের চাপে এ ধরনের বক্তব্য আসছে। আমরা এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইয়ের শহিদদের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের কেউই নির্বাচিত নয়। তাদেরকে গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে বিতাড়িত করে ছাত্র-জনতা ক্ষমতায় বসিয়েছে। এখন তারা যদি বলে ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা তাদের কাজ নয়, তবে এটি জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে বেইমানি ছাড়া আর কিছুই নয়।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ ও হেনস্তাসহ নারী নিপীড়নের নানা ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, গত ১৬ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময় নারীরা যেভাবে নির্যাতিত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাত মাসে পরিস্থিতি তেমনই রয়ে গেছে।
আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আমরা দেখছি আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়ে এখন মৃত্যুপথযাত্রী। জুলাই বিপ্লবের পরও এ অবস্থা চলছে মূলত ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত নারী নির্যাতনের বিচার বাস্তবায়ন না হওয়ায়। অন্তর্বর্তী সরকার যদি সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে নারী নির্যাতকদের ধরত তাহলে নতুন নারী নির্যাতকরা আর সাহস পেত না। কিন্তু সরকার আগের নির্যাতকদের যেমন ধরছে না তেমনি বর্তমান নির্যাতকদেরও ছাড় দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান ও আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় সদস্য তপু তৌহিদ, ওয়াসিম আহম্মেদ, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহবায়ক গোলাম নূর শাফায়েতুল্লাহ, ফারজায়ান আহসান কৃতিত্ব, ওয়ালিদ প্রমুখ।