জাকের পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার বলেছেন, বাংলাদেশে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। ভবিষ্যতে ৬৪ জেলায় বাজেট বরাদ্দ করতে হবে।
নেত্রকোনা জেলা জাকের পার্টির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সন্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেছেন, প্রাদেশিক সরকারের মাধ্যমে বাজেট বরাদ্দ করলে অর্থের সুষম বণ্টন এবং বাজেটের গুণগত ব্যয় নিশ্চিত হবে।
নেত্রকোনা জেলা শহরে পাবলিক হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা জেলা জাকের পার্টি সভাপতি মানিক চন্দ্র সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. সুরুজ।
জাকের পার্টির মহাসচিব বলেন, শহর আর গ্রামের মাঝে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে হবে। কেন্দ্রীভূত প্রশাসন, কেন্দ্রীভূত অর্থনীতি, কেন্দ্রীভূত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সব কিছুর বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।
শামীম হায়দার বলেন, বিকেন্দ্রীকরণ হলে জেলা পর্যায়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী, স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী থাকতে পারে। তবে জাতীয়ভাবে কিন্তু পুলিশ বাহিনী, সামরিক বাহিনী একটিই থাকবে। কেননা এক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি আছে। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে সর্বস্তরের মানুষকে মূল অর্থনৈতিক স্রোতধারায় অর্ন্তভুক্ত করতে হলে, অর্থের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হলে আমাদের অবশ্যই জেলা পর্যায়ে বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। প্রতিটি জেলা, মহানগর সদর দপ্তরের মাধ্যমে বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। যাতে প্রকৃত বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ আমরা পাই।
জাকের পার্টির মহাসচিব আরও বলেন, উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে যদি ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট বরাদ্দ হয়, দেখা যায়-রংপুর সিটি কর্পোরেশন পায় ৮০ মিলিয়ন ডলার। এ ধরণের বৈষম্য কেন্দ্রীভূত অর্থনীতির কারণেই হয়। তাই দেখা যায়, রাজধানী ঢাকা আর কুড়িগ্রামের মানুষের অর্থের তফাৎ অনেক।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত মহাসচিব মাহাবুবুর রহমান হায়দার, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবীর, শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বাস্তুহারা ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আ. রশিদ, তালাবা ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুফতি কাউসার আহমেদ চাদপুরী, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, মহিলা ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদিকা রহিমা সিদ্দিকা রিপু, কেন্দ্রীয় সদস্যা মহুয়া সুলতানা লাভলি প্রমুখ।