
প্রিন্ট: ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৫২ এএম
ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকার আহ্বান উপদেষ্টার

পুরান ঢাকা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫, ১০:২৮ পিএম

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। মানুষ যেন নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে আহ্বান জানান নৌপরিবহণ এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকালে বিআইডব্লিউটিএ’র ঢাকা নদীবন্দরের সদরঘাট টার্মিনাল, টার্মিনাল কাউন্টার, লঞ্চের পন্টুন, ওয়াইজঘাট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নদীপথে ঢাকা ছাড়ছে অসংখ্য মানুষ। বরিশাল, ভোলা ও চাঁদপুর যাওয়া জন্য ঘাটে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি বিলাসবহুল লঞ্চ। সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী উঠানোর হাঁকডাক দিচ্ছেন লঞ্চ শ্রমিকরা।
ঈদযাত্রায় শুক্রবার যাত্রীর চাপ তুলনামূলক অনেক বেশি। লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর প্রভাব না থাকায় চাঁদপুর রুটে শিডিউল অনুযায়ী চলছে লঞ্চ।
ভোলা অঞ্চলের লঞ্চগুলোতে দুপুর থেকে ভিড় করেছে যাত্রীরা। সকাল থেকে ভোলার বিভিন্ন রুটে অনেকগুলো লঞ্চ ছেড়ে গেছে। সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে।
লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদযাত্রার শুরুর পর থেকে এত ভিড় হয়নি। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মানুষের ভিড় বেড়েছে। আগামী দুদিন যাত্রীর চাপ থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন লঞ্চ মালিকেরা।
পুবালী-১ লঞ্চের ম্যানাজার মনিরুল বলেন, বরিশালের লঞ্চগুলো ৯টা থেকে ছাড়া শুরু করে। এরই মধ্যে ডেকের যাত্রীরা জায়গা নিয়েছেন। কেবিনও বিক্রি হচ্ছে। ভাড়া আগের মতোই আছে। অনেকে ২০ রমজানে অগ্রিম টিকিট কেটেছেন তারা শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার যাবেন। যাত্রীদের সুবিধার্থে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইয়াদ-১ লঞ্চে কথা হয় পটুয়াখালী বাউফলগামী যাত্রী রজ্জব আলী আরশের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাসেও যাই লঞ্চেও যাই। ঈদ উপলক্ষে ফ্যামিলি নিয়ে লঞ্চে যাওয়াই আরামদায়ক। কেবিন নিয়েছি সবাই মিলে আনন্দ-উল্লাস করতে করতে যাবে। তাছাড়া আজকে রৌদ্রের তীব্রতা অত্যান্ত প্রখর ছিল। এই গরমে নদী পথেই যাতায়াত আরাম।
এদিকে লঞ্চযাত্রীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও র্যাব।
পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক লিফলেট প্রচার করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা তাদের চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা নদী বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি এবং যাত্রী সেবা কার্যক্রম দেখে নৌপরিবহণ উপদেষ্টা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং ঢাকা নদী বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।